আবারও সেমিফাইনালের বৃত্তেই আটকে গেল বাংলাদেশ!

আবারও সেই সেমিফাইনাল, আবার সেই একই প্রতিপক্ষ, আবারও সেই শেফালি ভার্মা। বারবার একই বৃত্তে ঘুরছে বাংলাদেশ!

আবারও সেই সেমিফাইনাল, আবার সেই একই প্রতিপক্ষ, আবারও সেই শেফালি ভার্মা। বারবার একই বৃত্তে ঘুরছে বাংলাদেশ!

এশিয়া কাপের পর এশিয়ান গেমসেও ভারতের কাছে বিশাল ব্যবধানে হারলো বাংলাদেশ, তাও সেই সেমিফাইনালে। এবার যেন আগের ম্যাচের চেয়েও বাজে খেলে হারলো নিগার সুলতানার দল। হারের ব্যবধান বাড়লো, শেফালি ভার্মার রান বাড়লো, আর গল্পটা রইলো একই। নিশ্শিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে ১১৪ রানের হারে শেষ হলো ফাইনালের স্বপ্ন।

টস জিতে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৯৫ রান তোলে। ম্যাচের নায়ক শেফালি, ৪৯ বলে অপরাজিত ১০০ রান, ছক্কা ৯টি, ফিফটি করেছেন মাত্র ২৪ বলে। এটি তাঁর প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি, আর এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে কোনো ব্যাটারের প্রথম শতক। ভারতের ইনিংসের শেষ ওভারের শেষ বলে এক রান নিয়ে নিজের শতক পুর্ণ করেন তিনি ।

শুরুটা অবশ্য করে দিয়েছিলেন স্মৃতি মান্ধানা। ১৯ বলে ৩৭ রান করে তিনি আউট হন, পাওয়ারপ্লেতে ভারত তুলে ফেলে ৭২ রান। এই ইনিংসেই সুজি বেটসকে ছাড়িয়ে নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রানের মালিক হন মান্ধানা। হরমনপ্রীত কৌর করেন ৩৩ বলে ৪০। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাহিদা আক্তার ৪৮, মারুফা আক্তার ৪৩ আর রাবেয়া খান ৩৫ রান দেন, তিনজনই একটি করে উইকেট পান।

২০০ ছুঁইছুঁই লক্ষ্যে খেলতে নেমে নন্দীনি শর্মার প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। দিলারা আক্তার ২৩ বলে ২৭ করে কিছুটা লড়েছিলেন। তাঁর বিদায়ের পর ধস নামে। ৫৩ রানে ৫ উইকেট থেকে দেখতে দেখতে ৫৬ রানে ৭ উইকেট। একই ওভারে নাহিদা আর রাবেয়াকে ফেরান নন্দিনী। হ্যাটট্রিক বলটা কোনোমতে সামলে নেন সুলতানা খাতুন। এর বাইরে বাংলাদেশের ইনিংসে ব্যাট হাতে কেউই আহসা জাগাতে পারেননি, ক্রিজে এসেছেন এবং একটু পর ফিরে গিয়েছেন, কখনও নিজেদের ভুল শটে কখনো দারুণ বোলিং আর ফিল্ডিং নৈপুন্যে।

শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারে ৮১ রানে অলআউট বাংলাদেশ। দিপ্তি শর্মা ২.৪ ওভারে ৭ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। নন্দীনি ২৫ রানে ৩টি, শ্রী চরণী ৭ রানে ২টি। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান দিলারার ২৭, সুলতানা অপরাজিত থাকেন ১২ রানে।

এবারও সেই  সেমিফাইনালেই টূর্নামেন্ট এর যাত্রা শেষ , বার বার ভারতের কাছেই থেমে যেতে হয় বাংলাদেশের , এই গল্প যেন অবধারিত। !

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link