ভারত নামের সেই চেনা ভয়েই বারবার আটকে যায় বাংলাদেশ!

বার বার বড় মঞ্চে ভারতের কাছেই থেমে যায় বাংলাদেশ , ভারত সামনে থাকলেই বাংলাদেশ যেন আগেই পিছিয়ে যায়, লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টাটাও চোখে পড়ে না। এই জুজুর ভয় কাটানো না গেলে বড় আসরের শেষ ধাপটা পেরোনো কঠিনই থাকবে। 

১০ দিনের ব্যবধানে পরপর দুইবার হার, দুবারই সেমিফাইনালেই।  বার বার সেই এক গল্প যেন চিত্রায়িত হয়, যে কোন বড় আসর, সামনে প্রতিপক্ষ ভারত, আর সেখানেই থেমে যায় বাংলাদেশের মেয়েরা। এবারও এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে হার ১১৪ রানে। ভারত করল ১৯৫, বাংলাদেশ গুটিয়ে গেল ৮১ রানে।

ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং, আগ্রাসন, সবকিছুতেই দুই দলের মাঝে যোজন যোজন পার্থক্য,সেটা বোঝা যায় দুই দলের সেরাদের পাশাপাশি রাখলেই।

আজ শেফালি ভার্মা একাই করেছেন ৪৯ বলে অপরাজিত ১০০, অথচ বাংলাদেশের পুরো দল করেছে ৮১। হারমানপ্রীত কৌর ৪০ আর স্মৃতি মান্ধানা ৩৭ যোগ করলে ভারতের তিন ব্যাটারই করেছেন ১৭৭, যা বাংলাদেশের পুরো ইনিংসের দ্বিগুণের বেশি। অথচ বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ছিল কেবল দিলারা আক্তারের ২৭। বল হাতেও একই ব্যবধান, দীপ্তি শর্মা, নন্দিনী শর্মা আর শ্রী চরণী মিলেই নিয়েছেন ১০ উইকেটের ৮টি।

আগের সেমিফাইনাল গুলোতেও ছবিটা এক। ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমসে  ৫১ রান তুলতে বাংলাদেশের লেগেছিল ১৭.৫ ওভার, ভারত সেটা পেরিয়েছে ৮.২ ওভারে। ২০২৪ এশিয়া কাপে নিগার সুলতানা ৩২ রান করেছিলেন ৫১ বল খেলে, আর স্মৃতি মান্ধানা ৫৫ করেছেন ৩৯ বলে। রেণুকা সিং পাওয়ারপ্লেতেই তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে চেপে ধরেছিলেন, ৮১ রানের লক্ষ্য ভারত ছুঁয়েছে ১১ ওভারে, কোনো উইকেট না হারিয়ে।

এ মাসের ১০ তারিখে দুবাইয়ে ফারাকটা আরও পরিষ্কার হয়েছে। ধীরগতির উইকেটে ভারতের বেশিরভাগ ব্যাটার ছন্দে ছিলেন না, তবু শেফালি ৪০ বলে ৬৪ করে দলকে ১৪৯ এ পৌঁছে দেন। শুরুর তিন ওভারেই দুবার তাকে জীবন দিয়েছিল বাংলাদেশ,পুরো ইনিংস এ  চারবার। উল্টোদিকে ভারত বাংলাদেশের ইনিংসে চারটি ক্যাচ ফেলেছিল, তবু সেই সুযোগ কাজে লাগানোর মতো কেউ ছিল না। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২২ রান করেছেন স্বর্ণা আক্তার, আর বাংলাদেশ পরাজিত হয় ৪০ রানে।

২০২৪ এশিয়া কাপ, এ বছরের এশিয়া কাপ আর আজকের ম্যাচ, এই তিনটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ৩২, ২২ আর ২৭। ভারতের ৫৫, ৬৪ আর ১০০। ব্যবধানটা শুরু হয় একেকজনের ইনিংসের মাপ থেকেই,যার খালি চোখেই স্পষ্ট দৃশ্যমান। !

অথচ এই বাংলাদেশই ২০১৮ সালে ভারতকে হারিয়ে এশিয়া কাপ জিতেছিল। শেষ বলে ২ রান নিয়ে জাহানারা আলম জিতিয়েছিলেন ৩ উইকেটে। সেদিন ২৭ রান করা নিগার সুলতানা এখন দলের অধিনায়ক। সেই দিনগুলো এখন অনেক দূরের মনে হয়, যেন বাংলাদেশ কে নিয়ে লেখা কোন এক কল্পকাহিনি। !

এবার তো সেমিফাইনালে ওঠাটাও এসেছে না খেলে। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল পরিত্যক্ত হওয়ায় র‍্যাংকিংয়ের জোরে জায়গা পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেমিফাইনালে নেমে কি সত্যিই সেমিফাইনালের মতো খেলেছে দলটা? একই দিনে পাকিস্তান তুলেছে ১৭৭, শ্রীলঙ্কা সেই লক্ষ্য ছুঁয়েছে ১৩ বল হাতে রেখে। চামারি আতাপাত্তু ৫০ বলে অপরাজিত ৮৩ করেছেন। সেই ম্যাচ সেমিফাইনালের মতোই ছিল। বাংলাদেশের ম্যাচ ছিল শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একপেশে,যেন কেবল ফাইনালে উঠার জন্যে ভারত একাই খেলেছে। !

বার বার বড় মঞ্চে ভারতের কাছেই থেমে যায় বাংলাদেশ , ভারত সামনে থাকলেই বাংলাদেশ যেন আগেই পিছিয়ে যায়, লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টাটাও চোখে পড়ে না। এই জুজুর ভয় কাটানো না গেলে বড় আসরের শেষ ধাপটা পেরোনো কঠিনই থাকবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link