বিপর্যয় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে লিটন দাসের রাওয়ালপিন্ডির ১৩৮ রানের সেই ইনিংসই ছিল সবচেয়ে সেরা। সিলেটে সেই জায়গাটা এখন দখল করে নিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর অপরাজিত ২৪২ রানের পর আর কোনো তর্কের জায়গা থাকে না।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে তুলেছিল ৩৫৬। জবাবে ২২ রানে ২ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর হৃদয় নামেন, মাত্র দুই টেস্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে। প্রথম বাউন্ডারি পেলেন ৬০ বলের মাথায়। এর মধ্যে জেইডেন সিলসের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়েছে, নিজেও ছাড়েননি। সিলসের একটা বাউন্সার এসে পাঁজরে লাগলে মাঠেই শুয়ে পড়তে হলো, ফিজিও ছুটে এলেন। তবু উঠলেন, পানি খেলেন, আবার ব্যাট হাতে দাঁড়ালেন। ওদিকে মুশফিক, লিটন, মেহেদী, হাসান মাহমুদ একে একে ফিরে গেলেন, ১৮৪ রানে সাত উইকেট নেই।
এর পরের অংশটাই আসল পরীক্ষা, কারণ সঙ্গে আছেন লোয়ার অর্ডার। তাইজুল ইসলামকে নিয়ে হৃদয় যা করলেন, সেটা ব্যাটিংয়ের চেয়ে বেশি অভিভাবকত্ব। ওভারের শেষ বলে একটা সিঙ্গল নিয়ে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখতেন, আর ওয়ারিক্যান আর চেজের স্পিনের সামনে তাইজুলকে বাঁচিয়ে রাখতেন। শতাধিক রানের জুটিতে তাইজুলের অবদান ২২, বাকিটা হৃদয়ের। তাইজুল স্ট্যাম্পড হয়ে ফিরলেন, তখন স্কোর ৩০১।

তারপর এলেন তাসকিন আহমেদ। কাগজে দুটি উইকেট থাকলেও সাদমানের নামার কোন সম্ভাবনা নেই তাই শেষ উইকেট ধরে নেওয়া যায়, তখনই হৃদয় সবচেয়ে হাতখুলে খেললেন। ডাবল সেঞ্চুরি আগেই হয়ে গেছে ৩০৩ বলে, আর তিনিই প্রথম বাংলাদেশি যিনি অভিষেক সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে নিয়ে গেলেন। মুশফিকের ২১৯ পেরিয়ে দেশের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোরটাও নিজের নামে লিখলেন। তাসকিনকে নিয়ে জুটিতে উঠল ৮৫ রান, তাসকিন নিজে করলেন ২৯ বলে ১২ রান, মাঝে একটা চার আর বাকিটা বেঁচে থাকার লড়াই। ক্লান্ত হৃদয় একবার তাসকিনকে সিঙ্গল থেকে ফিরিয়ে দিলেন, আবার পরের ওভারেই ছক্কা হাঁকালেন। শেষ দিকে ওয়ারিক্যান, চেজ, বিশপ, কাউকে ছাড়েননি, ছক্কা যেন বৃষ্টির মতো এল।
সিলস শেষ পর্যন্ত তাসকিনকে আউট করলেন, সঙ্গে সাদমান চোটের কারণে নামতেই পারেননি, তাই ইনিংস থামল ৯ উইকেটে ৩৮৬ রানে। হৃদয় অপরাজিত ২৪২, ৩৫৯ বলে ২২ চার আর ১১ ছক্কায়। এক ইনিংসে এগারোটা ছক্কা বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২২ রানে ২ উইকেট থেকে শুরু করে দল শেষ করল ৩০ রানের লিড নিয়ে।
ধ্বংসস্তূপ থেকে একজন মানুষ একা একটা দলকে তুলে এনেছেন, আর সেটা করেছেন তিন টেস্ট খেলে, প্রতিপক্ষের কথার জবাব দিয়ে, পাঁজরে বলের আঘাত নিয়ে, লোয়ার অর্ডারকে আগলে। বাংলাদেশ এমন ইনিংস আগে দেখেনি।











