হাই লাইন ডিফেন্সের ঝুঁকি, নিখুঁত উইং প্লে এবং কাউন্টার-অ্যাটাকের গতিময় লড়াইয়ে ৫-৩ গোলের এক অবিস্মরণীয় ম্যাচ দেখল ইতিহাদ। ম্যাচ জুড়ে ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল নিয়ন্ত্রণ আর পজেশন দিয়ে আক্রমণ চালালেও, সান্ডারল্যান্ড তাদের গতি আর প্রেসিং এড়িয়ে হাই লাইন ডিফেন্সকে বারবার উন্মুক্ত করেছে। শেষ পর্যন্ত দলীয় নৈপুণ্য ও সেট পিসের কার্যকারিতায় জয় তুলে নেয় এঞ্জো মারেস্কার দল।
ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান কৌশলই ছিল উইং প্লে ব্যবহার করে সান্ডারল্যান্ডের লো ব্লক ডিফেন্সকে দুই পাশে টেনে ফাঁকা জায়গা বের করা। শুরুতেই এজো ফার্নান্দেসের ফ্রি কিকে সিটি এগিয়ে গেলেও, সিটির আসল উইং প্ল্যান দৃশ্যমান হয় দ্বিতীয় গোলে।
২৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে এন্তোনি সেমেনিয়োর পাসে রায়ান চেরকির গোলটি ছিল সিটির উইং ভিত্তিক ওভারল্যাপিং ও বক্সে হাফ স্পেস ব্যবহারের আদর্শ নমুনা। সিটির এই আক্রমণাত্মক ধার আরও স্পষ্ট হয় ৫৭ মিনিটে, যখন বাম প্রান্তের হাফ স্পেস ব্যবহার করে সেমেনিয়ো এক দুর্দান্ত ইন সুইঙ্গার শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।

তবে সিটির বাম উইং ব্যাক জোস্কো গভার্দিওলের ক্রমাগত ওভারল্যাপ ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে দেয়। ৮১ মিনিটে তাঁর নিচু পাস থেকেই আর্লিং হাল্যান্ড আলতো ছোঁয়ায় সিটির পঞ্চম গোল নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, সান্ডারল্যান্ডের ট্যাকটিক্স ছিল প্রেসিং এড়িয়ে দ্রুত ভার্টিকাল পাস খেলে সিটির হাই লাইন ডিফেন্স ভাঙা। সান্ডারল্যান্ডের পুরো কাউন্টার অ্যাটাকিং ছকের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন স্ট্রাইকার ব্রায়ান ব্রোবে।
১২ ও ৩৩ মিনিটে সিটির সেন্টার ব্যাকদের পজিশনিংয়ের দুর্বলতা এবং অফসাইড ট্র্যাপ ভাঙার সুযোগ নিয়ে ব্রোবে জোড়া গোল আদায় করেন। এরপর ৫৯ মিনিটে গ্রানিত জাকার নিখুঁত ডিফেন্স চেরা থ্রু পাস ধরে ব্রোবে ব্যাকলাইন বিট করে হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন, যা প্রমাণ করে সিটির ডিফেন্সিভ ট্রানজিশন কতটা ভঙ্গুর ছিল।

সংক্ষেপে, এটি ছিল সিটির ফ্ল্যাঙ্ক ডাইনামিজম ও সেট পিস দক্ষতার সাথে সান্ডারল্যান্ডের ক্ষুরধার ট্রানজিশনাল ফুটবলের সংঘাত। ব্রায়ান ব্রোবের হ্যাটট্রিক সিটির রক্ষণের দুর্বলতা উন্মোচিত করলেও, সেমেনিয়ো ও গভার্দিওলের কৌশলগত প্রভাব এবং নিখুঁত ফিনিশিংয়ের জোরেই লিগের টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।











