ঝাঁকড়া চুলের আড়ালে অসহায় বাবার গল্প

মাঠে তাকে দেখলেই প্রথমে চোখে পড়ে ঝাঁকড়া কোঁকড়ানো চুল। অনেকেই ভেবেছেন, এটা হয়তো স্টাইল, কেউ আবার মজা করেছেন সেই চুল নিয়েই। কিন্তু সেই চুলের পেছনে যে লুকিয়ে আছে একজন বাবার অসহায় ভালোবাসার গল্প, তা জানলে হয়তো সমালোচকরাও এক মুহূর্তের জন্য নীরব হয়ে যাবেন।

মাঠে তাকে দেখলেই প্রথমে চোখে পড়ে ঝাঁকড়া কোঁকড়ানো চুল। অনেকেই ভেবেছেন, এটা হয়তো স্টাইল, কেউ আবার মজা করেছেন সেই চুল নিয়েই। কিন্তু সেই চুলের পেছনে যে লুকিয়ে আছে একজন বাবার অসহায় ভালোবাসার গল্প, তা জানলে হয়তো সমালোচকরাও এক মুহূর্তের জন্য নীরব হয়ে যাবেন।

স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া জানিয়েছেন, তার লম্বা চুল কোনো ফ্যাশন নয়, বরং তার বড় ছেলে মাতেওর জন্য দেওয়া এক নীরব প্রতিশ্রুতি।

কুকুরেয়ার তিন সন্তান—মাতেও, রিও ও বেলা। এর মধ্যে বড় ছেলে মাতেও অটিজমে আক্রান্ত। মাত্র তিন বছর বয়সেই ধরা পড়ে তার এই বিশেষ চাহিদা। এরপর থেকেই বদলে যায় কুকুরেয়ার জীবন, বদলে যায় তার অনেক সিদ্ধান্তও।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুকুরেয়া জানান, ছেলে মাতেও তার লম্বা চুল খুব পছন্দ করে। শুধু তাই নয়, কখনো যদি ছেলের পক্ষে তাকে চিনতে কষ্ট হয়, তাহলে এই ঝাঁকড়া চুলই যেন বাবাকে চিনে নেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হয়ে থাকে। তাই আর চুল কাটার কথা ভাবেন না তিনি।

কথাগুলো বলতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।

কুকুরেয়া বলেন, “আমার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি ছেলে আছে। টাকা-পয়সা না থাকার চেয়ে আমার ছেলে যদি পুরোপুরি সুস্থ থাকত, সেটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হতো। আমি চুল বড় রেখেছি কারণ সে এটা ভালোবাসে। যদি কোনো মুহূর্তে সে আমাকে ভুলেও যায়, অন্তত এই চুল দেখে যেন আবার চিনতে পারে।”

একজন ফুটবলারের পরিচয় হয় তার ট্রফি, ম্যাচ কিংবা পারফরম্যান্স দিয়ে। কিন্তু একজন বাবার পরিচয় হয় সন্তানের জন্য নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে। কুকুরেয়ার ঝাঁকড়া চুল তাই আর শুধু একটি স্টাইল নয়, এটি একজন বাবার নীরব ভালোবাসা, সন্তানের প্রতি আজীবনের এক অটুট প্রতিশ্রুতি।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link