ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু আর্জেন্টিনা নিয়ে আবেগটা একটুও কমেনি এনজেল ডি মারিয়ার। জাতীয় দলের জার্সি এখন আর গায়ে না তুললেও, আলবিসেলেস্তেদের প্রতিটি জয়-পরাজয় এখনও ঠিক আগের মতোই নাড়া দেয় তাকে। আর তাই ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে দেওয়া তার একটি মন্তব্য এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
রোজারিও সেন্ট্রালের ম্যাচ শেষে টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডি মারিয়া বলেন, “আমার কাছে বিশ্বকাপ তো সেদিনই শেষ হয়ে গিয়েছিল, যেদিন আমরা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলাম। দেশের মানুষকে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর দিতে পারতাম না।”
প্রথম শুনে অনেকের কাছেই কথাটি বিস্ময়কর মনে হতে পারে। কারণ, আর্জেন্টিনা তো এরপরও বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে। কিন্তু ডি মারিয়ার কথার অর্থ মোটেও ফাইনালকে ছোট করা নয়। বরং ইংল্যান্ডকে হারানোর সেই জয়টিকেই তিনি পুরো টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আবেগময় মুহূর্ত হিসেবে দেখেছেন।

ফুটবল ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড লড়াই কখনোই শুধু একটি ম্যাচ নয়। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’, ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ থেকে শুরু করে ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট—সব মিলিয়ে এই দ্বৈরথ দুই দেশের মানুষের কাছে অন্যরকম এক আবেগের নাম। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর মুহূর্তটিই ডি মারিয়ার কাছে ছিল সবচেয়ে বড় তৃপ্তির উপলক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার এই বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছেন। যেন তিনি ফাইনালের গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়েছেন। বাস্তবে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই জয় আর্জেন্টিনার মানুষের জন্য এমন এক আনন্দ এনে দিয়েছিল, যার পর আর ব্যক্তিগতভাবে তার কাছে পাওয়ার কিছু বাকি ছিল না।
সাক্ষাৎকারে দীর্ঘদিনের সতীর্থ লিওনেল মেসিকেও ভরিয়ে দিয়েছেন প্রশংসায়। ৩৯ বছর বয়সেও মেসির পারফরম্যান্স দেখে বিস্মিত ডি মারিয়া।
“লিও যতদিন চাইবে, ততদিন খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত। আমার বিশ্বাস, সে আরও অনেক বছর খেলতে পারবে। ৩৯ বছর বয়সেও সে দেখিয়ে দিয়েছে, সে এখনও বিশ্বের সেরাদের একজন। আমার কাছে ইতিহাসের সেরা ফুটবলার সে।”

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও ভবিষ্যতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হিসেবে দেখছেন ডি মারিয়া। তার বিশ্বাস, তরুণদের নিয়ে যে নতুন দল গড়ে উঠছে, সেটিকে সফল পরিণতি দিতে স্কালোনির দায়িত্বে থাকাটা খুবই জরুরি।
“স্কালোনিই এই দলের মূল চালিকাশক্তি। সিদ্ধান্ত অবশ্যই তার নিজের। তবে একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে আমি চাই, সে দায়িত্বে থাকুক। কারণ, সে নতুন প্রজন্মকে দারুণভাবে গড়ে তুলছে।”
মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছেন অনেক আগেই। কিন্তু কথায়, অনুভূতিতে আর স্মৃতিতে আজও আর্জেন্টিনার একজন নিবেদিত সৈনিক এনজেল ডি মারিয়া। তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের কথা উঠলে তার মনে আগে ভেসে ওঠে না ফাইনালের হার, ভেসে ওঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে পুরো একটি জাতির উচ্ছ্বাস। আর সেটিই হয়তো বলে দেয়, আর্জেন্টিনার জার্সি খুলে রাখা যায়, কিন্তু সেই জার্সির প্রতি ভালোবাসা কোনোদিন অবসর নেয় না।
Share via:











