১২ বছর আগে বিশ্বজয়ী জার্মানি যেন হারিয়ে ফেলেছে ফুটবলের জৌলুস। খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা সেই ডাই ম্যানশ্যাফটদের উদ্ধার করতে এবার ফিরছেন এক জাদুকর। হ্যাঁ, ইয়ুর্গেন ক্লপই হচ্ছেন জার্মানির ডাগআউটের সর্বেসর্বা।
লিভারপুলের ডাগআউট ছাড়ার পর জল্পনা ছিল ক্লপ হয়তো অবসরেই থাকবেন। রেড বুলদের ফুটবল অপারেশনে তিনি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই ছিলেন। ৩০ বছর পর লিগ শিরোপা এনে দেওয়ার পর উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলকে রানার্সআপও বানিয়েছিলেন ক্লপ। ২০২৪ সালে ক্লাবটির হেড কোচের দায়িত্ব ছেড়ে বিশ্রামে যান এই কোচ।
কিন্তু মাতৃভূমির ডাক কি উপেক্ষা করা যায়? মেইনজ থেকে বুরুশিয়া ডর্টমুন্ড, আর সেখান থেকে অ্যানফিল্ড—সবখানেই ক্লপ এক হারানো ফুটবল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারের গল্প লিখে এসেছেন। তাই চারবারের বিশ্বজয়ীদের দুর্দিনে আবারও এগিয়ে এসেছেন মাত্র ৩৩ বছর বয়সে কোচিং ক্যারিয়ারে পা রাখা এই কিংবদন্তি। ২০৩০ পর্যন্ত হাভার্ৎজ-মুসিয়ালাদের গুরুর দায়িত্বে থাকবেন তিনি।

২০১৫ সালে লিভারপুলে গিয়ে ক্লপ বলেছিলেন, ‘সংশয়বাদীর বদলে বিশ্বাসী হতে হবে।’ সেই একই দাওয়াই এখন প্রয়োজন জার্মানদের জন্য। ২০১৪ বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের পর থেকে জার্মানি কেবল বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়েছ। ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই ছিটকে গেছে অনভিজ্ঞ জার্মানরা। সবশেষ আসরেও রাউন্ড অব ৩২-এ প্যারাগুয়ের কাছে লজ্জাজনক হারের মাধ্যমে বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় সেই হাহাকার আরও বেড়েছে।
মানসিকভাবে কতটা ভেঙে পড়েছে চারবারের বিশ্বজয়ীরা, তা স্পষ্ট অধিনায়ক জশুয়া কিমিচের অসহায় চোখে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে পেনাল্টি নেওয়ার জন্য অভিজ্ঞ কাউকেই খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত কিক নিতে রাজি হন অনভ্যস্ত ডিফেন্ডার জোনাথন টাহ, আর বল পাঠান গ্যালারিতে।
জার্মানি এখন স্রেফ প্রতিভার অভাবে ভুগছে না। মূলত ভুগছে আত্মবিশ্বাসের অভাবে। ক্লপ কি পারবেন তার সেই বিখ্যাত ‘হেভি মেটাল’ ফুটবল দিয়ে এই ভগ্নস্তূপ থেকে নতুন জার্মানিকে গড়ে তুলতে?

নিজেকে ‘দ্য নরমাল ওয়ান’ বলে পরিচয় দেওয়া ক্লপের সামনে এখন এক কঠিন মিশন। এই ‘সাধারণ’ মানুষটির হাত ধরেই কি ফিরবে জার্মানির রাজকীয় ফুটবল ঐতিহ্য? সংশয়ীদের বিশ্বাসীতে রূপান্তর করাই এখন ইয়ুর্গেন ক্লপের একমাত্র লক্ষ্য।










