বিশ্বকাপের ক্ষত ভুলে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন নেইমারের!

নরওয়ের বিপক্ষে হেরে যে ক্ষত নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল, সেই ক্ষত তখনও দগদগে। কেউ কেউ ভেবেছিলেন, এই ধাক্কা কাটিয়ে ক্লাব ফুটবলে ফিরতে সময় লাগবে নেইমারের। কিন্তু ফুটবল মাঝেমধ্যে এমন রাত উপহার দেয়, যেখানে হতাশা নিজেই পথ ছেড়ে দাঁড়ায় প্রতিভার সামনে।

নরওয়ের বিপক্ষে হেরে যে ক্ষত নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল, সেই ক্ষত তখনও দগদগে। কেউ কেউ ভেবেছিলেন, এই ধাক্কা কাটিয়ে ক্লাব ফুটবলে ফিরতে সময় লাগবে নেইমারের। কিন্তু ফুটবল মাঝেমধ্যে এমন রাত উপহার দেয়, যেখানে হতাশা নিজেই পথ ছেড়ে দাঁড়ায় প্রতিভার সামনে।

ব্রাজিলিয়ান সিরি আ’র ম্যাচে ভিলা বেলমিরোতে চাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে নামলেন নেইমার, ৯০ মিনিট পুরোটাই মাঠে থেকে একাই কাঁধে তুলে নিলেন সান্তোসের আক্রমণভাগ। ৩৬ মিনিটে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি, যেন বিশ্বকাপের সব দুঃখ ভুলিয়ে দেওয়ার এক ঘোষণা। কিন্তু গল্প এত সহজ হলো না। বিরতির পর ৫১ মিনিটে সমতা ফেরায় চাপেকোয়েন্স, আর ৬২ মিনিটে জোয়াও আনানিয়াসের আত্মঘাতী গোলে উল্টো পিছিয়েই পড়ে সান্তোস। মনে হচ্ছিল, প্রত্যাবর্তনের রাতেই তেতো স্বাদ নিয়ে ফিরতে হবে নেইমারকে। তবে শেষদিকে পেনাল্টি পায় সান্তোস, আর দায়িত্বটা নিজের কাঁধেই নেন নেইমার। গোল করে দলকে ফেরান সমতায়—২-২। হারের মুখ থেকে বাঁচান দলকে, বের করে আনেন একটা পয়েন্ট।

সংখ্যাতেও সেই রাতে তিনিই ছিলেন রাজা। ৯টি শট নিয়েছেন, যার ৫টিই লক্ষ্যে। প্রত্যাশিত গোল ছিল মাত্র ১.২০, অথচ করেছেন দুটো গোল—সুযোগের চেয়েও বেশি আদায় করে নিয়েছেন মাঠ থেকে। সোফাস্কোরে রেটিং পেয়েছেন ৯.৪, যা বলে দেয় সেদিন ভিলা বেলমিরোর নায়ক আর কেউ ছিলেন না। গোলের বাইরেও আক্রমণ বুনেছেন নিজের হাতে, ৬২টি পাসের ৪৮টি সফল, প্রতিপক্ষের অর্ধে ৫৯টির মধ্যে ৪৫টি সঠিক ঠিকানায়, সঙ্গে দুটি কী পাস।

চলতি ব্রাজিলিয়ান লিগে ৯ ম্যাচে এখন ৬ গোল আর ২ অ্যাসিস্ট নেইমারের নামের পাশে, পেনাল্টিতেও তিনি এখনও নিখুঁত। এই ড্রয়ে সান্তোস উঠে এসেছে টেবিলের ১৪ নম্বরে, ২০ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে। জয় হাতছাড়া হলো ঠিকই, কিন্তু দর্শকরা মাঠ ছাড়লেন এক আশ্বাস নিয়ে—নেইমারের পায়ে এখনও লেখা আছে সেই পুরনো জাদু, যা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গল্প বদলে দিতে পারে।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link