দেশ ছাড়ার হুমকি দিয়ে লঙ্কান লিগে তোলপাড় ফেললেন শাহীন!

ক্রিকেট মাঠে বল হাতে শাহীন আফ্রিদি মানেই এক নিশ্চিত হুমকি। কিন্তু এবার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে তাকে ঘিরে যে নাটক জমে উঠল, সেটা বাইশ গজের বাইরের—আর তার কেন্দ্রে বল নয়, একটা নামের তালিকা।

ক্রিকেট মাঠে বল হাতে শাহীন আফ্রিদি মানেই এক নিশ্চিত হুমকি। কিন্তু এবার লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে তাকে ঘিরে যে নাটক জমে উঠল, সেটা বাইশ গজের বাইরের—আর তার কেন্দ্রে বল নয়, একটা নামের তালিকা।

কান্ডি রয়্যালসের হয়ে খেলা শাহীনকে আগেই বলা হয়েছিল, কলম্বো ক্যাপসের বিপক্ষে তিনি খেলবেন “ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার” হিসেবে। ইনিংস তখন মাঝপথে, ঠিক তখনই কোচ এসে ক্ষমা চান—এনালিস্টের ভুলে তার নামটাই চূড়ান্ত তালিকায় জমা পড়েনি।

বিস্ময় আর ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেননি শাহীন। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে, জানান ম্যাচ রেফারিকেও। সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলেছিলেন—সোজা পাকিস্তানে ফেরার।

এই ক্ষোভের প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগেই জাফনা কিংসের সহ-মালিক মনজোত কালরাকে গ্রেপ্তার করা হয় সরাসরি ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগে। এমন কলঙ্কিত এক আসরে নিজের নামই ভুলে গায়েব হওয়াটা শাহীনের মনে প্রশ্ন জাগানো অস্বাভাবিক নয়।

কিন্তু খবর ছড়াতেই নড়েচড়ে বসে ফ্র্যাঞ্চাইজি। দল ব্যবস্থাপনা ও আয়োজকরা সরাসরি এসে ক্ষমা চান, বোঝান—এটা নিছকই মানবিক ভুল, ষড়যন্ত্র নয়। শেষে মন গলে শাহীনের, থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মাঠে অবশ্য এই ঝড়ের কোনো প্রভাব পড়েনি তার বোলিংয়ে—বরং উল্টোটাই যেন ঘটল। ঘটনার আগে প্রথম ম্যাচে ১ উইকেট নিয়ে ৪১ রান দেওয়া শাহীন, ঘটনার পরের ম্যাচেই ফিরলেন তেজ নিয়ে—২ উইকেট, মাত্র ৩৪ রানে। পরের ম্যাচে আরও ১ উইকেট, ৩২ রানে। যেন প্রতিটা ডেলিভারিতে বলতে চাইলেন—আমাকে যতই বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হোক, বল হাতে আমি ঠিকই বলব আমার কথা।

গল্পে অবশ্য আরেকটা মোড় আছে। কয়েকদিন পর পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সামা টিভির প্রতিবেদনে শাহীন নিজেই দেশে ফেরার খবর অস্বীকার করেন। তার ভাষ্য, ব্যবস্থাপনার একটা ভুলে সাময়িক অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন মাত্র, টুর্নামেন্ট ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্তই নেননি।

শেষ পর্যন্ত হিসাবটা সহজ—একটা ভুল, কিছুক্ষণের উত্তেজনা, তারপর ক্ষমা চেয়ে সমাধান। শাহীন রাগ করেছিলেন, প্রায় ফিরেও যাচ্ছিলেন, কিন্তু শেষমেশ মীমাংসা হলো ক্ষমা আর বোঝাপড়ায়, আর শাহীন থেকে গেলেন মাঠেই, ব্যাটসম্যানদের জন্য একই রকম দুঃস্বপ্ন হয়ে।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link