বিষাদ পেরিয়ে চেনা ছন্দে ইয়ামাল!

সাধারণ ফুটবলারদের জন্য দুই ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট না থাকাটা স্বাভাবিক হলেও, নামটা যখন লামিন ইয়ামাল, তখন এই দুটি ম্যাচই সমালোচকদের আলোচনা শুরু করার জন্য যথেষ্ট ছিল।

​লা লিগার নতুন মৌসুমের শুরু থেকেই বার্সেলোনা দল হিসেবে চমৎকার ছন্দে থাকলেও লামিন ইয়ামালকে নিয়ে সমর্থকদের মনে সামান্য দুশ্চিন্তার মেঘ জমেছিল। মাঠের খেলা খারাপ ছিল না, কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে স্কোরবোর্ডে গোলের দেখা পাননি তিনি। সাধারণ ফুটবলারদের জন্য দুই ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট না থাকাটা স্বাভাবিক হলেও, নামটা যখন লামিন ইয়ামাল, তখন এই দুটি ম্যাচই সমালোচকদের আলোচনা শুরু করার জন্য যথেষ্ট ছিল।

তবে ইয়ামালকে ঘিরে থাকা সব গুঞ্জন ও সংশয় উবে যেতে বেশি সময় লাগেনি। রায়ো ভ্যালেকানোর বিপক্ষে দুর্দান্ত ছন্দে ফেরেন তিনি, জোড়া গোল করে দলকে এনে দেন দাপুটে জয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচেও।

ভ্যালেন্সিয়া ৫-৪-১ ছকে অতি-ডিফেন্সিভ কৌশল নিয়ে মাঠে নামলেও ইয়ামালের তোপের মুখে তাদের সেই রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ে। ম্যাচের শুরু থেকেই ডান প্রান্তে প্রলয়ঙ্করী ঝড় তোলেন এই স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড।

ফারমিন লোপেসের দারুণ এক বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন ইয়ামাল। কিছু সময় পরেই লোপেসের সহায়তায় আবারও বল জালে পাঠালেও সামান্য অফসাইডের কারণে বাতিল হয় সেই গোলটি। তবে ইয়ামালকে থামানো যায়নি। ৮৪ মিনিটে আবারও বল জালে জড়িয়ে দলের পঞ্চম গোলটি নিশ্চিত করার পাশাপাশি টানা দুই ম্যাচে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তিনি।

​আন্তর্জাতিক ফুটবলের সাফল্য ও সাম্প্রতিক নানা টানাপোড়েনের পর সিজনের শুরুতে ইয়ামালের চোখে-মুখে একধরনের বিষাদ ভাব লক্ষ করেছিলেন বার্সা সমর্থকেরা। মাত্রই বিশ্বজয়ের আনন্দ উপভোগ করা তরুণ তারকাকে মাঠে কিছুটা বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। ফলে তাঁর গোল পাওয়ার চেয়েও সমর্থকদের কাছে বড় চাওয়া ছিল ক্যাম্প ন্যু-তে ইয়ামালের সেই চেনা হাসিমুখের দাপাদাপি দেখতে পাওয়া।

শেষ দুটি ম্যাচে শুধু গোল ও পারফর্মই করেননি, মাঠে ফের দেখা গেছে তাঁর সহজাত ও প্রাণবন্ত সেই হাসি। ইয়ামালের এই চেনা স্বাচ্ছন্দ্য ও ফর্ম নিশ্চিতভাবেই বার্সেলোনার আক্রমণভাগকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link