১১৪ রানের পুঁজি, সামনে শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী দল। লড়াই করতে হলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল বিশেষ কিছু। আর সেই বিশেষ কিছু করার দায়িত্ব যেন নিজের কাঁধেই তুলে নিলেন মারুফা আক্তার। বল হাতে একের পর এক আঘাত, শ্রীলঙ্কার ব্যাটিংয়ে তৈরি করলেন অস্বস্তি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ম্যাচটা জিততে না পারলেও, তিন উইকেটের দুর্দান্ত স্পেলে নিজের সামর্থ্যের আরেকবার জানান দিলেন বাংলাদেশের এই পেসার।
দুবাইয়ের মাঠে শুরু থেকেই লড়াইটা ছিল কঠিন। ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ ২০ ওভারে তুলতে পারে ১১৪ রান। টি-টোয়েন্টিতে যে পুঁজি মোটেও স্বস্তির নয়। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপে যখন আছেন চামারি আতাপাত্তু, হার্শিতা সামারাবিক্রমার মতো অভিজ্ঞ ব্যাটাররা। কিন্তু ছোট লক্ষ্যও সহজ করে দিতে রাজি ছিলেন না বাংলাদেশের বোলাররা। আর সেই প্রতিরোধের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম মারুফা।
প্রথম ওভারেই দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ফেরাল শ্রীলঙ্কার অধিনায়ককে। বাংলাদেশ যে এই ম্যাচ জিততে পারে সেই সম্ভবনা উঁকি দিয়ে ওঠে। নিজের দ্বিতীয় ওভারেও একই গল্প। ইমিশা দুলানি স্টাম্প উপড়ে ফেলেন দারুণ এক ইনিসুইং ডেলিভারিতে। ট্রেডমার্ক অস্ত্রের সফল ব্যবহার যাকে বলে। শেষের জন্য এক ওভার জমা ছিল তার। তবে অবস্থা বেগতিক বুঝতে পেরে অধিনায়ক তাকে আরও একবার আক্রমণে আনেন। আস্থার প্রতিদান দিতেও ভুল করেননি মারুফা। উপড়ে যায় স্টাম্প।

নিজের স্পেলে তিন ওভার বল করে মাত্র ২১ রান খরচ করেছেন মারুফা, তুলে নিয়েছেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। শুধু উইকেট পাওয়াই নয়, তাঁর বোলিংয়ে ছিল আক্রমণাত্মক মানসিকতার ছাপ। প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার চেষ্টা, লাইন-লেন্থে নিয়ন্ত্রণ এবং সুযোগ পেলেই আঘাত।
মারুফার এই পারফরম্যান্স অবশ্য হঠাৎ করে আসেনি। মাত্র ২১ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আলাদা একটা পরিচয় তৈরি করেছেন নীলফামারীর এই ক্রিকেটার। বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে গত কয়েক বছরে পেস বোলিংয়ের যে উত্থান, সেখানে মারুফা আক্তারের নামটি ক্রমেই আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এশিয়া কাপেও শুরুটা করেছিলেন দারুণভাবে। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আরও বড় মঞ্চে ৩ উইকেট।আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে উইকেট তুলে নেওয়ার ক্ষমতাও যেন আরও ধারালো হচ্ছে। বাংলাদেশের মেয়েদের ক্রিকেটে এমন একজন পেসার খুব প্রয়োজন ছিল, যিনি নতুন বলে যেমন আক্রমণ করতে পারবেন, তেমনি চাপের মুহূর্তেও ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করতে পারবেন।

ঠিক সেটাই করেছেন মারুফা। তাঁর ৩ উইকেট বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে দিয়েছিল বারবার। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানের পুঁজি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি, শ্রীলঙ্কা ৬ উইকেট হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের হারের মাঝেও যে কয়েকটি ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়া যায়, তার একেবারে সামনে থাকবেন মারুফা আক্তার।










