৪১ রানের জয় দরকার ছিল। বাঁচা-মরার সেই ম্যাচের আগের রাতে মাঠের খেলায় তেমন একটা নজরই ছিল না বাংলাদেশ দলের। শপিং, ঘুরে বেড়ানো, কিংবা আরব আমিরাতে প্রমোদ ভ্রমণে ব্যস্ত ছিলেন দলের একাধিক ক্রিকেটার।
আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের হার। এরপর আফগানিস্তানের বিপক্ষে অসহায় আত্মসমর্পণ। সব মিলিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করতে হলো তৃতীয় হয়ে। মাঠের পারফরম্যান্সে এমন ব্যর্থতার পর স্বাভাবিকভাবেই উঠছে প্রশ্ন, কী হয়েছিল বাংলাদেশ দলের? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে আরও বিব্রতকর কিছু তথ্য।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগের রাতে বাংলাদেশের কয়েকজন ক্রিকেটার নাকি গিয়েছিলেন দুবাইয়ের একটি শপিং মলে। শুধু ঘোরাঘুরি নয়, তাঁদের কেউ কেউ গিয়েছিলেন স্বর্ণের দোকানেও। আবার দলের আরেকটি দল নাকি টিম হোটেল থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দূরের একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছিল খাবার আনতে। বাড়ি থেকে দূরে থেকে দেশি খাবারের স্বাদ খুঁজতে গিয়েছিলেন তিনি।

অবশ্য ক্রিকেটারদের শপিংয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো ঘটনার সত্যতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা থাকছেই। তবে এমন অভিযোগ সামনে আসার পর বিষয়টি যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) জন্য অস্বস্তিকর, তা স্পষ্ট।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক পরিচালকও বিষয়টি নিয়ে বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে ক্রিকেটারদের পেশাদারত্ব এবং টিম ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন। ম্যাচের আগের রাতে কেনাকাটা করতে যাওয়া, ঘোরাঘুরি করা কিংবা এভাবে হোটেলের বাইরে সময় কাটানোকে ভালো চোখে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করেন তিনি।
তাঁর মতে, দল জিতলেও এমন আচরণ প্রশ্নের মুখে পড়ত। আর যখন মাঠের পারফরম্যান্সেও এমন ভরাডুবি, তখন সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হওয়াই স্বাভাবিক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারের পরই দলের সাথে বসেছিলেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল। সেখানে তিনি দলকে আফগানদের বিপক্ষে জিততে তাতিয়ে দিয়েছিলেন বলেই জানা যায়, অথচ, বোর্ড সভাপতির কথা কতটুকু কানে নিয়েছিল দলের সদস্যরা সেটা মাঠের পারফরম্যান্সেই পরিস্কার।











