ত্রিদেশীয় সিরিজে অনন্য আফগানিস্তান!

ক্রিকেট মাঠে আফগানিস্তান রীতিমতো উড়ছে। নতুন করে এক আগমনী বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব ক্রিকেটে। রশিদ খান-রহমানউল্লাহ গুরবাজদের নিয়ে যে নতুন করে ভাবতে হবে। জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জয় যেন সেই বার্তারই প্রতিচ্ছবি। 

বাংলাদেশের সাথে শুরু, প্রায় ১৫ ওভার আর সাত উইকেট হাতে রেখে ফেবারিট দলকে হারিয়ে দেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। শুধু তাই নয়, পরের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫৮ রানের জয় বলে দেয় এই আফগানরা একটু আলাদা। বলে রাখা ভালো, জিম্বাবুয়ে এর আগে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছিল মাঠে। আর বাংলাদেশকে ব্যর্থতার ফাঁকেও বড় দল হিসেবেই ক্রিকেট মহলে গণ্য করা হয়। এমন দুই দলকে ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জেতা কম কৃতিত্বের নয়।

ফাইনাল ম্যাচেও একই চিত্র। আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ফাইনালের চাপ যেন তাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয় আফগানিস্তান। ২২ রানে প্রথম উইকেটের পতন, ৫৫-তে যা গিয়ে দাঁড়ায় চার। জিম্বাবুয়ের জয়ের আশা তখন নিভু নিভু করছে।

বিপদে অনেকবারই হাল ধরেছেন সিকান্দার রাজা। এবারও ব্যতিক্রম হলো না। রায়ান বার্লকে সাথে নিয়ে গড়লেন ৬০ রানের জুটি। আশা দেখছিল জিম্বাবুয়ে। তবে ৩১ রানে বার্লের ফেরা সব আশার পাল ছিঁড়ে ফেলে। সেখান থেকে রাজা একাকী লড়ে যান। শেষমেশ ৬৮ রানে তাঁর ইনিংসের যবনিকা পতন ঘটলে জিম্বাবুয়ে তুলতে পারে মাত্র ১৬৯ রান।

হাতের নাগালে সবকিছু। খুব বেশি বিপর্যয় না হলে এই ম্যাচ অনায়াসে বের করে ফেলতে পারে আফগান শিবির। সেটাই হলো। ওপেনিং জুটি থেকেই ৬৮ রান আসে। ম্যাচে তখন বিন্দুমাত্র আশা বেঁচে নেই জিম্বাবুয়ের। বাকি সময়টা কেবলই নিয়ম রক্ষার।

ইব্রাহিম জাদরান এক প্রান্তের দখল নিয়ে খেলেন ৭০রানের ইনিংস। তাতেই আরও একবার হেসেখেলে জিম্বাবুয়েকে বধ করে আফগানরা। পরাজয়ের ব্যবধান এবারও বিশাল। সাত উইকেট সাথে ৯৩ বল হাতে। পুরো আসরে এমন দাপট দেখানো আফগানরা সত্যিই ভাবাচ্ছে। বারবার বুঝিয়ে যাচ্ছে, তাদের আর খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link