টেকনিক ছাড়াই সোহানের প্রেমে অন্ধ ভাগ্যদেবী

ব্যাট হাতে রান নেই, উইকেটের সামনে প্রতিপক্ষকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো কোনো ইনিংস নেই - তবুও জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মিছিলে তিনি এক অবিনশ্বর নাম।

ব্যাট হাতে রান নেই, উইকেটের সামনে প্রতিপক্ষকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো কোনো ইনিংস নেই – তবুও জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মিছিলে তিনি এক অবিনশ্বর নাম। বলছি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহানের কথা। পরিসংখ্যানের কিতাব যেখানে চরম হতাশার বার্তা দেয়, সেখানে তাঁর ভাগ্যের চাকা যেন ঘোরে ফ্যানের সর্বোচ্চ স্পিডে।

একজন জাতীয় দলের ব্যাটারের মূল হাতিয়ার তাঁর কৌশল ও রান করার সামর্থ্য। কিন্তু সোহানের ব্যাটিং টেকনিক চোখ বুজে দেখলেও চোখ ছানাবড়া হতে বাধ্য। ক্রিজে ফুটওয়ার্কের কোনো বালাই নেই, সোজা বলকেও জোর করে লেগ সাইডে টেনে খেলার এক অদ্ভুত ঝোঁক তাঁর সর্বাঙ্গে স্পষ্ট।

দূর থেকে তাঁর ব্যাটিং এপ্রোচ দেখে যে কারও মনে হতেই পারে কোনো টেলএন্ডার বোলার বুঝি ব্যাট হাতে নেমে গেছেন। এমন দুর্বল টেকনিক দিয়ে ঘরোয়া লিগে টুকটাক চমক দেখানো কিংবা কোনোমতে দিন পার করা সম্ভব হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানের সামনে তা বারবার ভেস্তে যায়। বিশ্বমানের বোলিংয়ের সামনে তাঁর এই হাঁসফাঁস টেকনিকের যে কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তা জানা সত্ত্বেও বিসিবি নির্বাচকদের নজর কাড়তে তা মোটেও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

পরিসংখ্যানও বলছে একই নিদারুণ গল্প। টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর গড় মাত্র ২২। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে গড় মাত্র ১৭.১৫, যেখানে আধুনিক ক্রিকেটের গতিময় যুগে এই গড় নিয়ে মিডল অর্ডারে নামা মানে দলের ওপর স্থায়ী বোঝা চাপিয়ে দেওয়া। ওয়ানডে ক্রিকেটে গড় ৩১.১ হলেও এই রানগুলো দলের প্রয়োজনে কতবার এসেছে, তা নিয়ে রয়েছে ঘোর সংশয়।

সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো – আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাট হাতে তার শেষ হাফ সেঞ্চুরির দেখা মিলেছিল সেই ২০২২ সালে! এরপর কেটে গেছে বছরের পর বছর, উইকেটে আসা-যাওয়া চলেছে, কিন্তু নামের পাশে বড় কোনো ইনিংস নেই।

নুরুল হাসান সোহানের ক্যারিয়ারে সতীর্থদের ইনজুরি যেন আশীর্বাদ হয়ে আসে। লিটন দাসের ইনজুরির সুবাদে দীর্ঘদিন পর আবারও ওয়ানডে একাদশে ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে যখন নিজেকে প্রমাণ করার সুবর্ণ সুযোগ ছিল, তখন তিনি মাত্র আট বল খেলে পাঁচ রান করেই সাজঘরে ফিরে গেলেন!

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের বালাই না থাকলেও যে কেবল উইকেটকিপিং আর ভাগ্যের জোর দেখিয়ে সুদিন টিকিয়ে রাখা যায়, তার জীবন্ত বিজ্ঞাপন হয়ে আছেন এই ক্রিকেটার। আক্ষেপের বিষয় সোহানের এই অফুরন্ত সৌভাগ্য যদি নিজের দলে না ফেরা হয়ে দেশের ক্রিকেটের জয়ে কাজে লাগত, তবে হয়তো চিত্রটা অন্যরকম হতে পারত!

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link