কেন হারের বৃত্তে বন্দি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড?

স্বপ্নীল এক সিজন পার করার পর চলতি মৌসুমের শুরুতেই যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখছে ইংলিশ জায়ান্টরা। টানা সাত ম্যাচে জয়ের দেখা নেই, চ্যাম্পিয়নস লিগ টেবিলে ২১ নম্বরে আর প্রিমিয়ার লিগে ১৩ নম্বরে ধুঁকছে দলটি।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারি থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি সমর্থক গত মৌসুমের শেষটায় বুক ফুলিয়ে বলে উঠেছিল – ‘ম্যান ইউ ইজ ব্যাক!’ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলে তিনে থেকে আসর শেষ করা এবং উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে দুর্দান্তভাবে কামব্যাক করা রেড ডেভিলদের নিয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল। কিন্তু সেই উচ্ছ্বাস এক মৌসুম না পেরোতেই মিলিয়ে গেছে গভীর হতাশায়।

স্বপ্নীল এক সিজন পার করার পর চলতি মৌসুমের শুরুতেই যেন মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখছে ইংলিশ জায়ান্টরা। টানা সাত ম্যাচে জয়ের দেখা নেই, চ্যাম্পিয়নস লিগ টেবিলে ২১ নম্বরে আর প্রিমিয়ার লিগে ১৩ নম্বরে ধুঁকছে দলটি। ফের কেন হঠাৎ এমন বিপর্যয়? মাঠের খেলায় তাদের ট্যাকটিক্যাল ও স্ট্রাকচারাল দুর্বলতার ব্যবচ্ছেদ করলে উত্তরটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

মাঠের খেলায় ম্যান ইউর পতনের বড় কারণ তাদের ভঙ্গুর মিডফিল্ড স্ট্রাকচার। আক্রমণে যাওয়ার সময় এবং কাউন্টার-অ্যাটাকের মুখে কার্লোস বালেবা ও আন্দ্রে সান্তোসদের মতো মিডফিল্ডারদের পজিশনিং ও ডিফেন্সিভ শিল্ডিংয়ের অভাবে রক্ষণ সরাসরি চাপে পড়ছে। ফলে লিসান্দো মার্টিনেজ ও হ্যারি ম্যাগুয়ায়ারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ায় মিডফিল্ডে বল রিকভারি মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

আধুনিক ফুটবলে সম্মিলিত প্রেসিং জরুরি হলেও ব্রুনো ফার্নান্দেস ও ইয়ুরি টিলামেনসদের টাইমিংয়ে বড় ধরনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। অন্যদিকে, হাই-প্রেসের মুখে গোলকিপার ও ডিফেন্স লাইন প্রেস রেজিস্ট্যান্স ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় ভুল পাস থেকে সহজ গোল হজম করতে হচ্ছে।

প্রতিপক্ষের লো-ব্লক ডিফেন্স বা জমাট রক্ষণ ভাঙার মতো কোনো কার্যকর পজিশনাল প্লে বর্তমানে ইউনাইটেডের খেলায় নেই। আক্রমণভাগে ব্রুনো ফার্নান্দেসের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং বক্সের আশেপাশে জোশুয়া জির্কজি কিংবা হয়েলুন্দদের পাসিং রুট বা অটোমেটিজমের অভাব দলটিকে ভুগিয়েছে। ট্যাকটিক্যাল বিকল্প বা গেমপ্ল্যানে বৈচিত্র্য না থাকায় প্রতিপক্ষ দলগুলো একটু গুছিয়ে ডিফেন্ড করলেই পুরো আক্রমণভাগ খেই হারিয়ে ফেলছে এবং গোলখরা দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

মৌসুমের শুরুতেই এই ট্যাকটিক্যাল গোলকধাঁধায় আটকে পড়ে রেড ডেভিলরা এখন খাদের কিনারায়। গত মৌসুমের সাফল্য যে দলটিকে আত্মতুষ্টিতে ভুগিয়েছিল, তা বর্তমান মাঠের পারফরম্যান্সেই পরিষ্কার। মাইকেল ক্যারিকে যদি দ্রুত এই স্ট্রাকচারাল ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে না পারেন, তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের পরের রাউন্ডে যাওয়া তো বটেই, প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ চারে ফেরাটাও অলৌকিক কিছু হয়ে দাঁড়াবে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link