প্যাড পড়ে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন শরিফুল!

রিফুল বসে আছেন প্যাড পরে। কারণটা তিনি ভালোই জানেন, এই দলে একটা উইকেট পড়া মানে আরেকটা পড়তে বেশি সময় লাগে না, এটা তিনি অনেকবার দেখেছেন।

বুধবার শারজায় ইমন আর সাইফ যখন ক্রিজে, সাইডবেঞ্চে তখন প্যাড পরে বসে ছিলেন শরিফুল ইসলাম। আট নম্বরে নামা ব্যাটারের এত আগে তৈরি হওয়ার কথা নয়। জুটিও তখন ভালোই জমে উঠেছে, সাত ওভারে ২৮ রানে চার উইকেট হারানো দলকে দুজন মিলে টেনে তুলেছেন একশর কাছাকাছি, ব্যবধানটা নব্বই ছাড়িয়েছে। তবু শরিফুল বসে আছেন প্যাড পরে। কারণটা তিনি ভালোই জানেন, এই দলে একটা উইকেট পড়া মানে আরেকটা পড়তে বেশি সময় লাগে না, এটা তিনি অনেকবার দেখেছেন।

শুরুটা দেখলেই বোঝা যায় ভয়টা অমূলক নয়। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের প্রথম ওভারেই তানজিদ হাসান উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলেন। ব্যাটিং অর্ডার বদলে তিন নম্বরে পাঠানো সৌম্য সরকার প্রথম বলেই বোল্ড, কভার ড্রাইভ করতে গিয়ে ইনসাইড এজে বল গিয়ে লাগল স্টাম্পে। শান্ত কিছুক্ষণ লড়ে ১৫ রানে আজমাতুল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে গুরবাজের হাতে ধরা পড়লেন, আর তাওহিদ হৃদয় ওমরজাইয়ের একই ওভারে রিটার্ন ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন শূন্য রানে।

সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর ইমন আর সাইফ ধীরে ধীরে একটা ঘর তুললেন। বড় শট নেই, ঝুঁকিও নেই, ওভারের পর ওভার কেবল একটা-দুটো রান। রশিদ খান আর নবির স্পিনের সামনে দুজনেই বল ঠেলে, সুইপ করে, ভাগ্যের সাহায্য নিয়ে এগোচ্ছিলেন। ইমন পঞ্চাশ ছুঁলেন, সাইফের নামের পাশেও ৪০ পেরিয়ে গেল। ড্রেসিংরুমের মানুষগুলোর মনেও হয়তো একটু আশা জেগেছিল, হয়তো এবার অন্যরকম কিছু হবে।

কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের পুরোনো গল্পটা এখানেই নিজের চেহারা দেখায়। ৩১তম ওভারে নবীর বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে গ্যালারিতে পাঠাতে গিয়ে সাইফ ক্যাচ দিলেন, ৮২ বলে ৪১ করে ফিরলেন। জুটি ভাঙার ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই এলেন মিরাজ। সাত বল খেললেন, বিলাল সামির বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ২ রানে। দুই ওভারের মধ্যে দুই উইকেট। শরিফুলকে তখন আর বসে থাকতে হলো না, যে প্যাড তিনি এতক্ষণ ধরে পরে ছিলেন, সেটা নিয়েই হাঁটতে হলো মাঠের দিকে।

এই দৃশ্য নতুন কিছু নয়। বদলায় শুধু প্রতিপক্ষ আর মাঠ, আর সব ম্যাচে কেউ একজন প্যাড পরে বসে থাকেন পরের ধসের অপেক্ষায়। ব্যাটাররা আশা দেখান, তারপর নিজেরাই সেটা ভেঙে দেন। আর ড্রেসিংরুমের সবচেয়ে বাস্তববাদী মানুষটি হয়তো সেই আশা দেখে খুব একটা ভরসা পান না, কারণ তিনি জানেন, এই গল্পের শেষটা তাঁর হাতে লেখা হয় না।

Share via
Copy link