রাওয়ালপিন্ডিতে ব্রুকের মহাকাব্য

তবে দ্বিশতকের সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তের পর দীর্ঘায়িত হয়নি তাঁর ক্রিজে অবস্থান। ইনিংসের শেষ বলে অফ স্টাম্পের বাইরের দিকে করা ফুল লেংথের ডেলিভারিতে বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ততক্ষণে অবশ্য নিজের কাজটা সেরে ফেলেছেন ইংলিশ অধিনায়ক।

দুর্দান্ত! অবিশ্বাস্য! অভূতপূর্ব! হ্যারি ব্রুক! রাওয়ালপিন্ডির বাইশ গজে যেন ব্যাট হাতে প্রলয়ংকরী এক মহাকাব্য রচনা করলেন ইংলিশ অধিনায়ক। শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণকে রীতিমতো ছিন্নভিন্ন করে উপহার দিলেন ক্যারিয়ারের শ্রেষ্ঠতম ওয়ানডে ইনিংস। চার-ছক্কার নান্দনিক প্রদর্শনীতে রাঙিয়ে তুললেন নিজের ব্যাটিংশৈলী, আর তাতেই রচিত হলো ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

ইনিংসের শেষ ওভারের প্রথম বলেই অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে পিচ করা ফুল লেংথের ধীরগতির ডেলিভারি ডিপ কভারের ওপর দিয়ে সীমানাছাড়া করলেন তিনি। বিশাল ছক্কায় মুখরিত হলো গ্যালারি! পরের দুই বলে জোড়া রান, অতঃপর চতুর্থ বলে আরেকটি চার। আর তাতেই দ্বিশতকের মাহেন্দ্রক্ষণ! ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম দ্বিশতকের কীর্তি গড়ে রেকর্ডবুকে নিজের নাম খোদাই করে নিলেন ব্রুক।

২১টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো তাঁর এই ইনিংস ছিল নিছক রানসংগ্রহ নয়, বরং ব্যাটিংশিল্পের এক দুর্ধর্ষ প্রদর্শনী। স্টাম্প বরাবর গুড লেংথে করা বলকে প্যাডেল সুইপে ফাইন লেগের সীমানা অতিক্রম করানো কিংবা অফ স্টাম্পের বাইরের বলকে ডিপ কভারের ওপর দিয়ে গ্যালারিতে পাঠানো, প্রতিটি শটেই ফুটে উঠেছে তাঁর আত্মবিশ্বাস, ক্ষিপ্রতা ও অসাধারণ উদ্ভাবনী ক্ষমতা। মাঠের প্রতিটি প্রান্তে যেন চলেছে ব্রুকের একচ্ছত্র আধিপত্য।

 

তবে দ্বিশতকের সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্তের পর দীর্ঘায়িত হয়নি তাঁর ক্রিজে অবস্থান। ইনিংসের শেষ বলে অফ স্টাম্পের বাইরের দিকে করা ফুল লেংথের ডেলিভারিতে বড় শট খেলতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ততক্ষণে অবশ্য নিজের কাজটা সেরে ফেলেছেন ইংলিশ অধিনায়ক।

তবে ইংল্যান্ডের এই রুদ্রমূর্তি কেবল ব্রুকের একক কীর্তিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। ব্যাট হাতে সমান ঔজ্জ্বল্যে নিজেদের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন টম বেন্টন, জো রুট ও উইল জ্যাকসও। তিন ব্যাটারের ব্যাট থেকেই এসেছে অর্ধশতক!

শুরুতে টম বেন্টন ও ডাকেটের ব্যাটে ইনিংসের ভিত নির্মাণের প্রয়াস ছিল কিছুটা ধীরস্থির। এরপর ক্রিজে এসে জো রুটের অভিজ্ঞতা ও ধারাবাহিকতা ইংল্যান্ডের ইনিংসে যোগ করে স্থিতি। ব্রুকের সঙ্গে তাঁর ১৫৯ রানের জুটি ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ব্যক্তিগতভাবে ৬৯ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন রুট।

অন্যদিকে ইনিংসের শেষভাগে ঝড় তোলেন উইল জ্যাকস। মাত্র ৩০ বলে ৬৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। ব্রুকের ঐতিহাসিক দ্বিশতক, রুটের দায়িত্বশীল ব্যাটিং, এবং জ্যাকসের বিধ্বংসী ফিনিশিংয়ে ইংল্যান্ড ৪ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ৪২৯ রানের বিশাল পুঁজি।

লেখক পরিচিতি

আল ওয়াসি তালুকদার

প্রথম প্রেম, শেষ প্রেম, মাঝখানে যত প্রেম, সবই বোধহয় ক্রিকেটকে ঘিরে! দেশের ঘুণেধরা ফুটবলের প্রতিও মায়াটা নেহাত কম নয়। সাংবাদিকতার অ-আ-ক-খ শিখতে এখনও বহু পথ বাকি, তাই সাংবাদিক পরিচয়ে সংকোচের অন্ত নেই। টুকটাক শব্দের চাষ করি, সেই ফসলই ঠাঁই পায় আমার নতুন ঠিকানা, খেলা ৭১-এ। স্বপ্নের অন্বেষণে রত এক নগণ্য কলমশ্রমিক আমি।

জন্ম বরিশাল সদরে, পৈতৃক শিকড় উজিরপুরে। বেড়ে ওঠা, মাধ্যমিক, উচ্চ-মাধ্যমিকের পাঠ চুকেছে পিরোজপুরের নেছারাবাদে। বর্তমানে স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতক (সম্মান) অধ্যয়নরত।

Share via
Copy link