২২৬ রানের লক্ষ্য মানে শুরু থেকেই ঝড় তুলতে হবে, আর সেটাই করে দেখালেন সঞ্জু স্যামসন। বৃহস্পতিবার ক্রাইস্টচার্চে ৩৩ বলে ৬৭ রান করে ভারতের রান তাড়ার ভিতটা একাই গড়ে দিলেন তিনি, মেরেছেন আটটা চার আর চারটা ছক্কা।
শুরুটা অবশ্য সহজ ছিল না। প্রথম ওভারেই দুটো বল তাঁকে প্রায় ঝামেলায় ফেলে দিয়েছিল, একটা বল ভেতরে ঢুকে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যায়নি, আরেকটায় আউটসাইড এজ পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু তৃতীয় বলে একটু ছোট লেংথের বল পেয়ে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে পুল করে সীমানা পার করে দিলেন। ওই এক শটেই বোঝা গেল, বোলারের লেংথ তিনি আগেই পড়ে নিচ্ছেন। ওপাশে অভিষেক শর্মা প্রথম বলেই ছক্কা মেরে দলের সুর বেঁধে দিয়েছিলেন।
এরপর থেকে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা যেদিকেই বল করেছেন, সেদিকেই বাউন্ডারি। এগিয়ে এসে পরপর দুটো চার, তারপর এক ওভারে একটা ছক্কা আর দুটো চার। সেই ওভারে একটা মজার ঘটনাও ঘটল। স্যামসনের শট ধাওয়া করতে গিয়ে দুই ফিল্ডার একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেলেন, বল গড়িয়ে চলে গেল বাউন্ডারির বাইরে, ফিল্ডাররাও যেন খেই হারিয়ে ফেলছিলেন।সেই ওভারে উঠল ২২ রান। ষষ্ঠ ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়াল ১ উইকেটে ৯৪, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়ারপ্লেতে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোরগুলোর একটা।

স্যামসনের ফিফটি এল ২৩ বলে। এক বলে এগিয়ে এসে লং অনের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দিলেন, পরের বলেই ব্যাকফুটে গিয়ে মিড অফের ওপর দিয়ে আরেকটা বাউন্ডারি। ওই ওভারেই অভিষেক ফিরে গেলেন, কিন্তু স্যামসনের গতি একটুও কমল না। পরের ওভারে সেই স্পিনারকেই ছক্কা হাঁকালেন, গা ছেড়ে দিয়ে, যেন কোনো তাড়াই নেই। এই বছর এটা তাঁর অষ্টম পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস, এক ক্যালেন্ডার বছরে ভারতের হয়ে এই তালিকায় তিনি এখন প্রথম সারিতেই।
শেষ পর্যন্ত তাঁকে থামাল একটা বল। একটু নীচু লেংথের বলটা কাট করতে গিয়ে বল আর ব্যাটে এল না, আন্ডার এজ হয়ে স্টাম্পে গিয়ে লাগল। ৬৭ রানে ফিরলেন স্যামসন। ওপেনিংয়ে ভারতের যা দরকার ছিল, তা তখন হয়ে গেছে। স্যামসনের শুরু করে দেওয়া কাজটা শেষ করার দায়িত্ব এখন অন্যদের হাতে।











