কিউইদের পাহাড়সমান রান টপকে ভারতের তাণ্ডব

ক্রাইস্টচার্চে  প্রথম ইনিংস শেষে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা নিউজিল্যান্ডের পকেটেই। ২২৫ রানের পাহাড় সামনে রেখে ভারতকে নিয়ে কেউ খুব একটা ভাবছিল বলে মনে হয়নি। অথচ ১৯.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২৩০ তুলে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ১-০ তে।

ক্রাইস্টচার্চে  প্রথম ইনিংস শেষে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটা নিউজিল্যান্ডের পকেটেই। ২২৫ রানের পাহাড় সামনে রেখে ভারতকে নিয়ে কেউ খুব একটা ভাবছিল বলে মনে হয়নি। অথচ ১৯.৪ ওভারে ৬ উইকেটে ২৩০ তুলে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল ভারত। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ১-০ তে।

টস জিতে ভারত ফিল্ডিং নিয়েছিল। নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার প্রথম দুই ওভারে একটু সাবধানে খেলে শুরু করলেন, তারপর  একের পর এক বাউন্ডারি। ফিন অ্যালেন ২৪ বলে ৪৫ করে ফিরলেন, স্কোর তখন ২ উইকেটে ৮১, আর রানের গতিও একটু কমে এসেছে।

সেই জায়গা থেকে ইনিংসের হাল ধরলেন গ্লেন ফিলিপস। শুরুতে একটু সময় নিয়ে থিতু হলেন, তারপর বেভন জ্যাকবসকে পাশে নিয়ে ভারতের বোলারদের ওপর দিয়ে ঝড় বইয়ে দিলেন। ৪০ বলে অপরাজিত ৮২ রানের এই ইনিংস না থাকলে নিউজিল্যান্ডের স্কোর এত বড় হতো না। নিজেদের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে এটাই কিউইদের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি স্কোর।

২২৬ রানের লক্ষ্যে নেমে ভারতের যা দরকার ছিল সেইটাই এনে দিলেন সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। অভিষেক প্রথম বলেই ছক্কা মেরে ব্যাটের ঝাঁঝ বুঝিয়ে দিলেন। ভারতো প্রথম দুই অভার ধীরেই খেললো এরপর  তৃতীয় ওভারে এল ২২ রান, চতুর্থ ওভারে ২৬। ষষ্ঠ ওভার শেষে স্কোর ১ উইকেটে ৯৪। স্যামসন ২৩ বলে ফিফটি তুলে নিয়েছেন, অভিষেক ফিরেছেন ১২ বলে ২৯ করে। তখন এক পর্যায়ে মনেই হচ্ছিল ১০-১২ ওভারেই ম্যাচ শেষ হয়ে যাবে, এমন ভাবনাটা মোটেও বাড়াবাড়ি ছিল না।

কিন্তু স্পিনাররা এসে সব বদলে দিলেন। মিচেল স্যান্টনারের বলে ৩৩ বলে ৬৭ করে বোল্ড হলেন স্যামসন। তিন নম্বরে তিলক ভার্মাকে পাঠানোর চালটাও উল্টো ফল দিল, ১১ বলে ৬ করে ফিরলেন তিনি। ঈশান কিষান বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হলেন ৩ বলে ১ করে। ৯৩ রানে কোনো উইকেট না হারানো ভারত দেখতে দেখতে ১২২ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে বসল। রানরেট উঠে গেল ১০-এর ওপরে, আর ম্যাচে ফিরে এল নিউজিল্যান্ড।

ওই চাপের মুখে ম্যাচটা আবার ঘুরিয়ে দিলেন শ্রেয়াস আইয়ার আর অক্ষর প্যাটেল। অক্ষর ১৪ বলে ২৪ করে চাপটা কমালেন, তিনি ফিরলে আইয়ার ধরলেন হাল। ম্যাট হেনরির এক ওভারে উঠল ২০ রান, হিসাব আবার ভারতের দিকে হেলে গেল। মাঝের এই সময়টায় নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিংও সাহায্য করল ভারতকে। আইয়ারের একটা ক্যাচ পড়ল, নতুন ব্যাটার নামন ধীরও পেলেন একটা সুযোগ। শিশিরে ভেজা বলে ইয়র্কার রাখতে হিমশিম খেলেন বোলাররা। আইয়ার ২৮ বলে ৪২ করে ফিরলেও তখন ১২ বলে দরকার মাত্র ১৬।

শেষটা করলেন ধীর। শেষ ওভারে হেনরির ফুলটসে চার মেরে কাজ প্রায় সেরে ফেললেন, তারপর টপ এজ হয়ে উড়ে যাওয়া একটা ছক্কায় জয়ও এনে দিলেন। শটটা ঠিক মনের মতো হয়নি, কিন্তু তাতে কী এসে যায়। ১৫ বলে অপরাজিত ৪২ রানে ম্যাচ শেষ করলেন তিনি।

হারের পর নিউজিল্যান্ডের আফসোসটা অবশ্য সহজে যাবে না। ২২৫ করেও ম্যাচ হেরে যাওয়ার পেছনে হাত ছিল ফিল্ডিংয়ের ভুল আর বোলারদের সঠিক সময়ে জ্বলে উঠতে না পারা।  আর অন্যদিকে ভারত আরও একবার নিজেদের ওপেনিং আর লোয়ার অর্ডারের শক্তি দেখিয়ে দিলো।

Share via
Copy link