ম্যাচ ফসকে যাওয়ার মুখে নামান ধীরের রুদ্ররূপ!

উপরের সবাই যখন কাজ অর্ধেক করে ফিরে গেছেন, হিসাব যখন কঠিন হয়ে উঠেছে আর গ্যালারিতে নিঃশ্বাস আটকে আছে, ঠিক তখন নেমে ম্যাচটা শেষ করে আসা। নামান ধীর সেই কাজটাই করলেন, মাথা ঠান্ডা রেখে, সিচুয়েশন বুঝে এগিয়ে গেলেন আর শেষ ধাপটা পার করলেন নিজের মতো করে, অপরাজিত থেকে। এমন রাতেই একজন ফিনিশারকে চেনা যায়।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করলেও একসময় মনে হচ্ছিল ভারতের কাছে থেকে ম্যাচটাই ফসকে যাচ্ছিল, ঠিক  সেই জায়গায় শেষটা নিজের মতো করে লিখে দিলেন নামান ধীর। ১৫ বলে অপরাজিত ৪২ রান, আর তাতেই ২২৬ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলল ভারত।

নামান ধীর যখন ক্রিজে এলেন, তখন ম্যাচের হাওয়া পুরোপুরি উল্টো দিকে। শুরুর ঝড়টা থেমে গেছে, একের পর এক উইকেট পড়েছে, আর অক্ষর প্যাটেল ফিরে যাওয়ায় পাঁচ উইকেট নেই। জিততে ষাটের কাছাকাছি রান বাকি, হাতে ৩২ বলের মতো। ওপাশে শ্রেয়াস আইয়ার একা লড়ছেন। নতুন ব্যাটারের ওপর এমন চাপ নিয়ে নামা সহজ কাজ নয়।

প্রথমে স্ট্রাইক ছেড়ে দিলেন শ্রেয়াশের কাছে সিঙ্গেল নিয়ে  এরপর থেকে বড় শট আসতে শুরু করল, আর তার সঙ্গে খানিকটা ভাগ্যও। একটা ড্রাইভে ব্যাটের কানা লেগে বল গেল শর্ট থার্ডের দিকে, ফিল্ডার হাত ছোঁয়ালেন কিন্তু ধরতে পারলেন না, বল গড়িয়ে গেল সীমানায়। আরেকটা ছোট বলে টপ এজ হয়ে বল উড়ে গেল শর্ট ফাইনের মাথার ওপর দিয়ে। কিন্তু ধীর এসব নিয়ে মাথা ঘামালেন না। স্যান্টনারের ওভারে বসে পড়ে স্লগ সুইপ মারলেন কাউ কর্নারের দিকে, ফিল্ডার দৌড়ে এসে লাফিয়ে ক্যাচ প্রায় ধরেই ফেলেছিলেন, বাউন্ডারি টাচ করে ফেলায় ক্যাচের বদলে ছক্কা হয়ে গেলো। ওই ওভার থেকেই ম্যাচের চাপটা নিউজিল্যান্ডের কাঁধে চলে গেল।

আইয়ার ফিরে যাওয়ার পর আবার একটু শঙ্কা জেগেছিল। ১২ বলে ১৬ লাগবে, ক্রিজে নতুন ব্যাটার নিতীশ রেড্ডি, আর বল শিশিরে ভেজা। তবু ধীরের মধ্যে কোনো তাড়াহুড়ো দেখা গেল না। ফুলটস পেয়েও বুঝেশুনে খেললেন, দুই ফিল্ডারের মাঝখান দিয়ে ড্রাইভ করে বাউন্ডারি আদায় করে নিলেন। শেষ ওভারে ৮ রান দরকার, বল করবেন হেনরি। প্রথম বলেই আরেকটা ফুলটস পেলেন, সেটাও সীমানার বাইরে। তারপর একটা সিঙ্গেল, আর শেষ বলে শর্ট বলটা টপ এজ হয়ে উড়ে গেল উইকেটকিপারের মাথার ওপর দিয়ে। শটটা ঠিক সুন্দর হয়নি। কিন্তু ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়া শটের সৌন্দর্য নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না।

লোয়ার অর্ডারের একজন ব্যাটারের কাজ আসলে একটাই। উপরের সবাই যখন কাজ অর্ধেক করে ফিরে গেছেন, হিসাব যখন কঠিন হয়ে উঠেছে আর গ্যালারিতে নিঃশ্বাস আটকে আছে, ঠিক তখন নেমে ম্যাচটা শেষ করে আসা। নামান ধীর সেই কাজটাই করলেন, মাথা ঠান্ডা রেখে, সিচুয়েশন বুঝে এগিয়ে গেলেন আর শেষ ধাপটা পার করলেন নিজের মতো করে, অপরাজিত থেকে। এমন রাতেই একজন ফিনিশারকে চেনা যায়।

সিরিজের শুরুতেই ভারত এগিয়ে গেল ১-০ তে, আর সেই এগিয়ে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় নামটা হয়ে রইল নামান ধীরের।

Share via
Copy link