একটা সময় ৩০০ রান করাই ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। আর এখন আধুনিক ক্রিকেটে ৩০০ তো বটেই, চারশো রানও তাড়া করে জিতছে দলগুলো। অথচ বাংলাদেশ এখনো ৩০০ রান দেখলেই হিমশিম খায়! সবচেয়ে হতাশার বিষয়, রান তাড়ায় নামার আগেই যেন হেরে যায় দলের মানসিকতা।
তিনশো পেরোলেই যেন বাংলাদেশের সামনে খুলে যায় নতুন এক চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্য যত বড় হয়, ততই বাড়ে চাপ; রানরেটের সমীকরণ কঠিন হয়ে উঠলে এলোমেলো হয়ে যায় ব্যাটিংয়ের হিসাব। ওয়ানডেতে ৩০০ বা তার বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের সাফল্যের হার মাত্র ১০.৩৪ শতাংশ। ৫৮ বারের চেষ্টায় জয় এসেছে মাত্র ছয়টিতে। এমন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫১ বারই জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। রেজাল্ট আসেনি একটিতে।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা ৮৩ বার ৩০০ বা তার বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সফল হয়েছে ১৩ বার। ওয়ানডেতে বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ২৯ বার ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়েছে। রান তাড়া করতে নেমে তিনশোর বেশি করেছে সাতবার, জয় এসেছে ছয়টিতে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা ওয়ানডেতে ৩০০ পেরিয়েছে ৮৯ বার, রয়েছে তিনটি ৪০০ প্লাস ইনিংসও।

তবে প্রশ্নটা শুধু বড় রান করা কিংবা বড় লক্ষ্য তাড়া করার সামর্থ্যের নয়। বাংলাদেশের ব্যাটিং পরিকল্পনা কতটা পরিষ্কার, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। কখন উইকেট ধরে রাখতে হবে, কখন রান তোলার গতি বাড়াতে হবে, আর কখন ঝুঁকি নেওয়া জরুরি। এসব সিদ্ধান্তই বড় লক্ষ্য তাড়ার ভাগ্য গড়ে দেয়। প্রয়োজনীয় রানরেট বাড়তে থাকলে ব্যাটাররা কি পরিকল্পনায় স্থির থাকতে পারেন, নাকি দ্রুত রান তোলার চাপে উইকেট হারিয়ে বসেন?
অথচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই সাম্প্রতিক সময়ে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়, ২০২৪ সালে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজে লঙ্কানদের হারানো, একই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও জয়ের দেখা পেয়েছে লাল-সবুজের দল এবং সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়। সবই প্রমাণ করে, এই লঙ্কানদের সঙ্গে কতটা আধিপত্য বিস্তার করতো বাংলাদেশ। গত বছরের টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপেও দুই দলের লড়াই হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
আধুনিক ওয়ানডেতে প্রতি বলে বাউন্ডারি মারতে হয় না। প্রয়োজন উইকেট হাতে রেখে রানরেটের সঙ্গে তাল মেলানো, জুটি গড়া এবং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া। শ্রীলঙ্কা যেন সেটাই করলো রাওয়ালপিন্ডিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। শ্রীলঙ্কার ৪৩০ রান তাড়া করে জয় বাংলাদেশের জন্য শিক্ষার বটে। লঙ্কানরা যেন আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে থাকলে কোনো রানই অসম্ভব নয়।

বাংলাদেশ বারবার একই ভুল করেও শিক্ষা নিতে পারছে না। বড় লক্ষ্য সামনে এলেই যেন এলোমেলো হয়ে যায় ব্যাটিং পরিকল্পনা। কেউ রান তুলতে পারেন না, কেউ আবার চাপ সামলাতে না পেরে উইকেট বিলিয়ে আসেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এত বছর পার করার পরও ৩০০ রান তাড়ার মৌলিক হিসাব কেন বাংলাদেশকে বারবার নতুন করে শিখতে হবে?
শ্রীলঙ্কা ৪৩০ রান তাড়া করে দেখিয়েছে, পরিকল্পনা আর আত্মবিশ্বাস থাকলে বড় লক্ষ্যও অসম্ভব নয়। অথচ বাংলাদেশ এখনো একই ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে।











