আইপিএল কেন সবার চেয়ে আলাদা? তারকার ছড়াছড়ি, হাইভোল্টেজ ম্যাচ, নাকি প্রিয় জার্সিতে পরিচিত মুখগুলোর থেকে যাওয়া? উত্তরটা একেকজনের কাছে একেক রকম। তবে একটা বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই, একটা ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে ভক্তদের সম্পর্ক গড়ে তুলতে প্লেয়ার রিটেনশনের ভূমিকা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
পরিচিত ক্রিকেটার, পরিচিত জার্সি, আর বছরের পর বছর জমতে থাকা স্মৃতি। এভাবেই তৈরি হয় একটা দলের নিজস্ব আইডেনটিটি।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে প্লেয়ার রিটেনশন সিস্টেম নেই। এক মৌসুমের সতীর্থ পরের মৌসুমেই হয়ে যেতে পারেন প্রতিপক্ষ। অথচ এই বাস্তবতার মধ্যেই ফরচুন গ্রুপ যেন নিজেদের মতো করে গড়ে তুলেছে এক অদৃশ্য রিটেনশন পলিসি।

শুরুটা ২০২০ সালের শেষ দিকে। করোনা মহামারির সময় বিপিএলের বিকল্প হিসেবে আয়োজিত বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপেই অভিষেক ফরচুন বরিশালের। সেই টুর্নামেন্ট আর ফিরে আসেনি, কিন্তু ফরচুনের জার্নি থামেনি।
২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা চারটি বিপিএল আসরে অংশ নিয়ে তিনবার ফাইনালে ওঠা, আর দুবার চ্যাম্পিয়ন হওয়া, তাও আবার ব্যাক টু ব্যাক!.এই ট্র্যাক রেকর্ড বলে দেয় অনেক কিছুই! ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ইনভেস্টমেন্ট গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু টাকা ঢাললেই ট্রফি আসে না। লাগে ব্যালেন্সড স্কোয়াড, কার্যকর পরিকল্পনা আর মাঠে পারফরম্যান্স। ফরচুন বরিশালের যেন আছে সবকিছুই।
এবার আসন্ন ডি থ্রি ট্রফিতে দলের নাম শুধু ‘ফরচুন’। টি-টোয়েন্টির পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে এবার ওয়ানডে ও চার দিনের ক্রিকেটে নতুন চ্যালেঞ্জ। এই টুর্নামেন্টের স্কোয়াডের দিকে একবার তাকানো যাক! স্কোয়াডের দিকে তাকালে মনে হবে, ঘরের ছেলেরা যেন ফিরছে নিজেদের ঘরে।

দলের আইকন তাওহীদ হৃদয় ফরচুন বরিশালের হয়ে দুটি বিপিএল আসরে খেলেছেন। ছিলেন বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের সেই শুরুর দলেও। তানজিদ হাসান তামিমও ছিলেন ২০২০ সালের ক্যাম্পেইনে। এবার তাঁকে দলে পেতে রিতীমত কাড়াকাড়ি করতে হয়েছে ফরচুনকে।
নাজমুল হোসেন শান্তর রয়েছে ২০২২ ও ২০২৫ সালের বিপিএলে ফরচুন বরিশালের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা। নতুন দলটির ক্যাপ্টেন্সির দায়িত্বও তাঁর কাঁধে আসতে পারে। সৌম্য সরকার ও সৈকত আলীর সঙ্গেও রয়েছে পুরোনো সংযোগ।
মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনেরও অবদান ছিল ফরচুন বরিশালের প্রথম বিপিএল শিরোপা জয়ে। এ ছাড়া ফজলে মাহমুদ রাব্বি, এবাদত হোসেন চৌধুরী, কামরুল ইসলাম রাব্বি, তানভীর ইসলাম ও রিশাদ হোসেনেরও রয়েছে ফরচুন বরিশালের হয়ে এক বা একাধিকবার খেলার অভিজ্ঞতা।

এবারের স্কোয়াডে পুরোনো সম্পর্ক থাকা ক্রিকেটারের সংখ্যা ১২। এর মধ্যে সাতজনের জন্মই বরিশালে। আর এখানেই ফরচুনের স্কোয়াড বিল্ডিংয়ে অন্যদের চেয়ে একটা আলাদা প্যাটার্ন দেখা যায়।
স্কোয়াডে রয়েছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী ও সাব্বির রহমানসহ আরও নতুন কিছু মুখ! সাব্বির আগে ফরচুন বরিশালের হয়ে না খেললেও বিপিএলে বরিশাল বুলস ও বরিশাল বার্নার্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ফলে তাঁর নামের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে বরিশালের ক্রিকেটের পুরোনো স্মৃতি।
কেবল দেশি ক্রিকেটারই না, আগেও বিদেশি ক্রিকেটারদের রিটেনশনে বারবার একই খেলোয়াড়দের স্কোয়াডে রাখতে চেয়েছে বা রেখেছে ফরচুন। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে পঞ্চপাণ্ডবের পাঁচজনের চারজনই খেলেছেন এই দলের হয়ে, দীর্ঘ সময় ধরে।

দেশের সেরা তারকাদের নিয়ে টানা মাঠের সাফল্যর কারণে গত কয়েক বছরে আলাদা একটা ফ্যানবেইজও তৈরি হয়েছে। ২০২৬ বিপিএলে ফরচুন অংশ না নেওয়াতেই তো দেখে গেছে ভক্তদের হাহাকার! এভাবেই ধীরে ধীরে মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছে ফরচুন গ্রুপ।
নতুন এই টুর্নামেন্টে সব দলই নিজ নিজ কোম্পানির নামে। ফরচুনও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে নামটা কোম্পানির হলেও পরিচয়ে যেন ওরাই বরিশাল। প্রশ্ন জাগে, বাকি পাঁচটি দল কি পারবে এমন করে একটা শহরকে নিজেদের করে নিতে? ফরচুনের নামের সঙ্গে তো ‘বরিশাল’ না থাকলেও চলে!











