একটা সিরিজ। দুই রকম গল্প। প্রথমটিতে বাংলাদেশের অসহায় আত্মসমর্পণ, দ্বিতীয়টিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত জবাব। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে বাংলাদেশ দেখেছিল পরাজয়ের তিক্ততা, আবার উপভোগ করেছিল জয়ের স্বাদও। দুই বছর পর আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দুই দল। এবার কী পুরোনো গল্পের পুনরাবৃত্তি, নাকি নতুন কোনো অধ্যায়? উত্তর খুঁজবে মিরপুর ও সাগরিকার ২২ গজ!
অ্যান্টিগায় ২০১ রানের হার দিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের হতাশা। জাস্টিন গ্রিভসের অপরাজিত ১১৫, মিকাইল লুইসের ৯৭ আর অ্যালিক আথানেজের ৯০ রানের ইনিংসে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল বাংলাদেশের বোলিং। কিন্তু জ্যামাইকায় ছবিটা বদলে যায়। নাহিদ রানার গতির ঝড় আর তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে ১০১ রানের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ।
এবারের মঞ্চ অবশ্য আলাদা। নিজেদের মাঠ, পরিচিত পরিবেশ, গ্যালারিতে সমর্থকদের প্রত্যাশা। কিন্তু ঘরের মাঠ মানেই কি জয় নিশ্চিত? বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা। মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, লিটন দাস ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে দায়িত্ব নিতে হবে। সর্বশেষ সিরিজের ফর্ম ক্যারি করতে হবে ওপেনার সাদমান ইসলামকেও।

বোলিংয়েও আছে বেশ নতুনত্ব! ২০২৪ সালের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নাহিদ রানা এবার প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে নেই ইনজুরি কারণে। ছিলেন দারুণ ফর্মেও, তার না থাকাটা দলের জন্য খানিকটা হতাশারই বটে। তাই তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদদের ওপর বাড়বে দায়িত্ব। অন্যদিকে রস্টন চেজের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজও এসেছে নিজেদের পরিকল্পনা নিয়ে।
শাই হোপ ও আলজারি জোসেফের অনুপস্থিতি লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের জন্য অনেকটাই স্বস্তিদায়ক বলা চলে। আর মিরপুর মানেই সেখানে স্পিনারদের জন্যও থাকছে বড় সুযোগ। ম্যাচ যত সামনে এগোবে, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজরা ততই হয়ে উঠবেন দলের সবচেয়ে বড় ট্রাম্প কার্ড! তবে তার আগে বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামলাতে হবে নতুন বলের পরীক্ষা।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টও লুফে নিতে হবে বাংলাদেশকে যেকোনোভাবেই। তাই এই দুই ম্যাচ আগের চেয়ে অনেক বেশিই গুরুত্বপূর্ণ! হোম অ্যাডভান্টেজ কাজে লাগাতে পারে কি না নাজমুল শান্তর দল, সেটাই এখন দেখার পালা।












