​ঘুরে দাঁড়ানোর মিশনে কীভাবে সফল মরিনহো?

ঠিক কী পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবিশ্বাস্য রূপান্তর ঘটিয়েছেন 'স্পেশাল ওয়ান'? চলুন দেখে নেওয়া যাক মরিনহোর সেই চারিত্রিক ও কৌশলগত পরিবর্তনের চালচিত্র।

সিজনের শুরুটা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য ছিল দু:স্বপ্নের মতো। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে হার, মাদ্রিদ ডার্বিতে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের কাছে হোঁচট এবং অন্যান্য প্রতিপক্ষের সাথে পয়েন্ট হারানো। সব মিলিয়ে সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকদের মনে প্রশ্ন তুলেছিল যে হোসে মরিনহোর এই প্রত্যাবর্তন কি আদতে আলোর মুখ দেখবে?

তবে আন্তর্জাতিক বিরতির পর দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। মরিনহোর ট্যাকটিকাল মাস্টারক্লাস আর কঠোর ড্রেসিংরুম কালচারের বদৌলতে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে লস ব্লাঙ্কোসরা। ন্যু ক্যাম্পে এল ক্লাসিকো জয়সহ টানা ছয় ম্যাচের জয়রথ প্রমাণ করে দিয়েছে যে হোসে মরিনহো দমে যাওয়ার পাত্র নন। ঠিক কী পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অবিশ্বাস্য রূপান্তর ঘটিয়েছেন ‘স্পেশাল ওয়ান’? চলুন দেখে নেওয়া যাক মরিনহোর সেই চারিত্রিক ও কৌশলগত পরিবর্তনের চালচিত্র।

ফেদে ভালভের্দেকে রাইট-ব্যাক পজিশনে খেলানোর মাস্টারস্ট্রোক দিয়ে শুরু করা যাক। ট্রেন আলেক্সান্ডার আর্নোল্ড কিংবা ডেনজেল ডামফ্রিসদের মতো তারকারা যখন ডিফেন্সিভ স্থায়িত্ব দিতে ব্যর্থ, তখন এই সমস্যার সমাধানে মরিনহো এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। মিডফিল্ডের পরীক্ষিত সৈনিক ফেদে ভালভের্দেকে রাইট-ব্যাক পজিশনে স্থানান্তরিত করেন। অতীতে অন্যান্য কোচরা এই পজিশনে খেলালেও ভালভের্দে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন না। কিন্তু মরিনহোর ট্যাকটিক্সে তাঁর অন্তহীন ওয়ার্ক-রেট ডিফেন্সকে দুর্দান্ত কভার দিচ্ছে এবং মিডফিল্ডে বাড়তি স্পেস তৈরি করে দিচ্ছে।

পাশাপাশি ৪-২-৩-১ ফরমেশনে পজেশন ও মিডফিল্ডের রূপান্তর ঘটিয়েছেন মরিনহো। নিজের পুরোনো অতি-ডিফেন্সিভ ও লো-পজেশন ট্যাকটিকস থেকে সরে এসে তিনি এবার দল সাজিয়েছেন ফ্লুইড ৪-২-৩-১ ফরমেশনে, যেখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে টেকনিক্যাল সুপিরিয়রিটি।

আর্দা গুলের নম্বর ১০ পজিশনে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করছেন, অন্যদিকে বার্নার্দো সিলভা কিছুটা গভীরে থেকে চুয়ামেনিকে সাথে নিয়ে ম্যাচের টেম্পো নিয়ন্ত্রণ করছেন। একই সাথে দলের বড় তারকা জুড বেলিংহামও এই ট্যাকটিকসে নিজেকে পুরোপুরি নিবেদন করেছেন, যেখানে প্রতিপক্ষের পায়ে বল হারালেই তিনি দ্রুত নিচে নেমে ডিফেন্সিভ পিভটকে শক্তিশালী করছেন।

সেট-পিসে অপ্রতিরোধ্য আধিপত্যও রিয়ালের এই সাফল্যের অন্যতম বড় চাবিকাঠি। ডেড বলের পরিস্থিতি বা সেট-পিসে রিয়াল মাদ্রিদ এখন রীতিমতো এক পরাশক্তি। গত পুরো মৌসুমে যেখানে তারা মোটে ১২টি গোল করেছিল সেট-পিস থেকে, সেখানে মরিনহোর অধীনে মাত্র দশ ম্যাচেই ৭টি গোল আদায় করে নিয়েছে দলটি। আর্দা গুলেরের নিখুঁত বাম পায়ের ডেলিভারিগুলো কর্নার কিকগুলোকে প্রতিপক্ষের জন্য মূর্তিমান আতঙ্ক বানিয়ে তুলেছে।

সবশেষে আসে স্টার ইগো দমন ও কড়া ড্রেসিংরুম কালচার। মরিনহো মানেই শৃঙ্খলার কড়াকড়ি। ড্রেসিংরুমে নিজের শক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তিনি প্রমাণ করেছেন কোচের চেয়ে বড় কেউ নয়।

কিলিয়ান এমবাপ্পে কিংবা জুড বেলিংহামের মতো গ্যালাক্টিকোরাও এখন মাঠে নেমে হাই-প্রেস করছেন এবং ট্যাকটিকাল শৃঙ্খলার স্বার্থে নিয়মিত ডিফেন্স ট্র্যাকিং করছেন। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি দারুণ দক্ষতায় সামলে মিডিয়ার শিরোনাম থেকে নেতিবাচক আলোচনা দূরে রেখেছেন এই পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link