হৃদয়ময় তৃতীয় দিন!

বাংলাদেশ কোথাও ছিল না, সেখান থেকে একটা সম্ভাবনার পথ বাতলে দিলেন হৃদয়। অন্তত ১২০-১৩০ রান পিছিয়ে থাকার কথা, তবে সেটা উল্টে আরও ৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। হৃদয়ের ২৪২-টাই মূলত তৃতীয় দিনের সবচেয়ে জরুরি খবর, সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

লিটন দাস, মুশফিকুর রহিমদের অপারগতা ঢেকে তাওহীদ হৃদয় এক মহাকাব্য লিখলেন। বাংলাদেশ কোথাও ছিল না, সেখান থেকে একটা সম্ভাবনার পথ বাতলে দিলেন হৃদয়। অন্তত ১২০-১৩০ রান পিছিয়ে থাকার কথা, তবে সেটা উল্টে আরও ৩০ রানের লিড পায় বাংলাদেশ। হৃদয়ের ২৪২-টাই মূলত তৃতীয় দিনের সবচেয়ে জরুরি খবর, সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

দ্বিতীয় দিনেই পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন আরও প্রবলভাবে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশকে ঠেলে দিল পরাজয়ের একেবারে কিনারে। ৬০ রানের মধ্যেই চার ব্যাটার ফিরে গেলেন সাজঘরে।

এই দুরবস্থা থেকে বাংলাদেশকে টেনে তোলার নেশায় মাতলেন তাওহীদ হৃদয়। সবাই যখন ধরেই নিল সব শেষ, সেখান থেকেই শুরুর মহাকাব্য লিখলেন তিনি। সঙ্গী তাইজুল ইসলাম।

ওই জুটি থেকে বাংলাদেশ তোলে ১১৭ রান। বল খেলেছে ১৬৭টি। এর মধ্যে ৯২ রানই হৃদয়ের। তবে তাইজুলের খেলা ৫৬টা বলের গুরুত্ব যে কম ছিল না। সেই জুটি ভাঙার পর ৮৫ রানের আরও এক অনবদ্য জুটি গড়ে ওঠে তাসকিন আহমেদ আর হৃদয়ের হাত ধরে। যদিও মুখ্য চরিত্রে ছিলেন হৃদয়ই।

 

ফিফটির পর সেঞ্চুরি, সেখান থেকে ডাবল সেঞ্চুরি, তবুও অদম্য এক ঘোড়া, হার স্বীকার না করা এক যোদ্ধা সমরাঙ্গণ দাপিয়ে বেড়িয়েছে। কোথাও কিছু নেই, আশা নেই, ভরসা নেই, তবুও নিজের ওপর এক বিশ্বাস, ‘আমি পারব, করে দেখাব’। যেটাই মূলত ২৪২ রান করার পর অপরাজিত রেখেছে তাওহীদ হৃদয়কে।

সাদমান ইসলাম নেই। তাই ১২ রানে তাসকিনের বিদায়ের পর শেষ করতে ইনিংস। ৩৮৬ রানে অর্থাৎ ৩০ রানের লিড নিয়ে থামে বাংলাদেশের ইনিংস, থামে তাওহীদ হৃদয়ের এক মহাকাব্য।

শেষ বিকেলে এক-দুই উইকেট নিয়ে যেতে পারলে ভালো হয়। সেই আশায় দুটো রিভিউ প্রথম ওভারেই হারায় বাংলাদেশ। তবে কোনো প্রাপ্তিযোগ ঘটেনি। সাত রান করেই দিন শেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link