পাকিস্তান বনাম আফগানিস্তানের ম্যাচ এখন ক্রিকেটের নয়া বিনোদন। এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপের মত মঞ্চে যতবারই মুখোমুখি হয়েছে এই দুই দল ততবারই রোমাঞ্চের জন্ম হয়েছে। এবারও একশত ওভারের রোমাঞ্চ দেখা গিয়েছে, তবে শেষমেশ জিতেছে আফগানিস্তান।
আট উইকেটের বড় ব্যবধানে বাবর আজমদের হারিয়েছে দলটি। সেই সাথে গত এশিয়া কাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিলো তাঁরা।
আগে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার কোন বিপদ ছাড়াই পাওয়ার প্লে কাটিয়ে দেন। তবে এরপরই ইমাম উল হককে আউট করে উদযাপনের উপলক্ষ এনে দেন নুর আহমেদ; যদিও আরেক প্রান্তে আবদুল্লাহ শফিক অবিচল থাকেন, তুলে নেন এবারের আসরের দ্বিতীয় ফিফটি।
অধিনায়ক বাবর আজমও রানের দেখা পেয়েছেন এদিন। দুজনের জুটিতে দলীয় শতরান পূর্ণ করে পাকিস্তান, কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে শফিক আর রিজওয়ানকে হারালে চাপে পড়ে যায় দলটি। সেসময় সৌধ শাকিলকে সঙ্গে নিয়ে বাবর হাল ধরার চেষ্টা করেন।
অবশ্য নবীর স্পিন ঘূর্নিতে ১৬৪ রানের মাথায় কাটা পড়েন শাকিল, আর নুর আহমেদ তুলে নেন ৭৪ রানে ব্যাট করতে থাকা পাক কাপ্তানের উইকেট। যষ্ঠ উইকেটে দুই অলরাউন্ডার শাদাব খান এবং ইফতেখার আহমেদ ৭৩ রানের জুটি গড়লে ইনিংসের শেষটা সুন্দর হয় পাকিস্তানের। নির্ধারিত পঞ্চাশ ওভারে শেষপর্যন্ত ২৮২ রান তুলতে সক্ষম হয় তাঁরা।
রান তাড়ায় যেমন প্রত্যাশা করছিল তার চেয়ে ভাল শুরু পেয়েছে আফগানিস্তান। দুই ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং ইব্রাহিম জাদরান তুলোধুনো করতে শুরু করেন শাহীন শাহ, হারিস রউফদের। মাত্র ১৬ ওভারেই এই দুই ব্যাটার দলের রান তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে দেয়। এই বিশ্বকাপেই এটি আফগানদের দ্বিতীয় শতরানের ওপেনিং পার্টনারশিপ।
ততক্ষণে তাঁরা নিজেরাও তুলে নিয়েছিল ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরি। যদিও দ্বিতীয় স্পেলে শাহীন শাহ আক্রমণে আসতেই ধরা পড়েন গুরবাজ, ৫৩ বলে ৬৫ করে ফেরেন তিনি। তবে রহমত শাহকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন জাদরান। কিন্তু দলীয় ১৯০ রানে এই ওপেনার আউট হলে শঙ্কা জাগে পরাজয়ের।
দুই অভিজ্ঞ হাসমতউল্লাহ শহীদি এবং রহমত দলকে পথ হারাতে দেননি। ওপেনারদের গড়ে দেয়া জয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে। দুজনের ৯৬ রানের জুটিতে পাকিস্তানকে হারানোর স্বাদ পায় আফগানরা; শহীদি শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪৮ রানে আর রহমতের ব্যাট থেকে আসে ৭৭। আর এর মধ্য দিয়ে ইংল্যান্ড ম্যাচের পর আবারো অঘটনের জন্ম দিলো নবী, রশিদরা।