লং অনের ওপর দিয়ে সিক্স, কীর্তিপুরের স্টেডিয়াম তাকিয়ে দেখল আরিফুল ইসলামের ক্লাস। প্রথম ম্যাচে এক্সট্রা কভারের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। এক দেখায় শট অব দ্য টুর্নামেন্ট আখ্যা দিয়েছিলেন ধারাভাষ্যকাররা। তবে এই শটটাকে কী বলবেন তাঁরা? অনিন্দ্য সুন্দর, ধ্রুপদি সঙ্গীতের মূর্ছনা, কিংবা অন্য কোনো বিশেষণ? যেটাই হোক, আরিফুল প্রথম দুই ম্যাচেই বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর মান।
টেকনিক্যালি কতটা উঁচু মানের আরিফুল। বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে যাঁরা দেখেছেন তাঁকে, তাঁরা সেটা ভালো মতোই জানেন। তবে বিদেশ-বিভুঁইয়ের এই লিগে আরিফুল কি চেনা কেউ? প্রথমবার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে গিয়ে যেভাবে শুরু করলেন দুটো ম্যাচ, নিঃসন্দেহে তাঁর ক্লাসকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল।

বিরাটনগরের বিপক্ষে ১৮৭ রানের বিশাল লক্ষ্য। নেপালের ধীরগতির উইকেট, যেখানে স্পিনারদের রাজত্ব, সেখানে এই রান হিমালয়সম। ওপেনিংয়ে দায়িত্ব পড়েছিল আরিফুলের। এই ম্যাচের চ্যালেঞ্জটা, শুরু থেকেই রানের চাকা সচল রাখা।
প্রথম বল থেকেই তাই চার্জে গেলেন। লং অনে ক্যাচ উঠেছিল, ফিল্ডারের হাত ফসকে বাউন্ডারিতে পরিণত হয় তা। জীবন পাওয়ার পর চলে ১২ বলের তাণ্ডব। কখনও কভার দিয়ে বল সীমানা ছাড়া করেছেন, কখনও বেছে নিয়েছেন ডিপ মিড উইকেট, কখনও হাঁটু মুড়ে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে। ব্যাটিং দেখে এক মুহূর্তের জন্য হলেও মনে পড়বে এবি ডি ভিলিয়ার্সের কথা। এতটাই দৃষ্টিনন্দন ছিল আরিফুলের ব্যাটিং।

শেষটা অবশ্য আক্ষেপেরই। ২৬৬ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটার সমাপ্তি ঘটেছে মাত্র ৩২ রানে। তবে সাজঘরে ফেরার আগে জানান দিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে হীরার খণ্ড নিয়ে গেছে নেপাল প্রিমিয়ার লিগ।










