শাহীনের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টায় আকবর আলীরা!

অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাসে ভেসেছিল পুরো দেশ। সেই ঐতিহাসিক দলে ছিলেন কুড়িগ্রামের এক তরুণ পেসার। শাহীন আলম। সেদিন যিনি ছিলেন ভবিষ্যতের আশার নাম, আজ তিনি লড়ছেন বেঁচে থাকার যুদ্ধে। এখন তার প্রতিদিনের প্রতিপক্ষ অভাব, অসহায়ত্ব আর অনিশ্চয়তা।

২০২০ সালের সেই ফেব্রুয়ারি। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে লাল-সবুজের পতাকা উড়েছিল প্রথমবারের মতো। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের উল্লাসে ভেসেছিল পুরো দেশ। সেই ঐতিহাসিক দলে ছিলেন কুড়িগ্রামের এক তরুণ পেসার। শাহীন আলম। সেদিন যিনি ছিলেন ভবিষ্যতের আশার নাম, আজ তিনি লড়ছেন বেঁচে থাকার যুদ্ধে। এখন তার প্রতিদিনের প্রতিপক্ষ অভাব, অসহায়ত্ব আর অনিশ্চয়তা।

শাহীনের স্বপ্নটা ছিল খুব সাধারণ। ভালো খেলবেন, দেশের জার্সি গায়ে চাপাবেন, ক্রিকেট দিয়েই বদলে দেবেন পরিবারের ভাগ্য। কিন্তু সময় বড় নিষ্ঠুর। টানা ইনজুরিতে দুই বছর মাঠের বাইরে। শরীর সেরে উঠলেও বাস্তবতা আর সঙ্গ দেয়নি। প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে ফেরার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু সেখানেও সময়ের নির্মম রূপটা দেখেছেন তিনি। যে ক্রিকেট তাকে পরিচয় দিয়েছিল, সেই ক্রিকেট থেকেই যেন ধীরে ধীরে ছিটকে পড়েন তিনি।

এর মধ্যেই পরিবারে নেমে আসে আরও অন্ধকার। বাবা-মায়ের অসুস্থতা, চিকিৎসার খরচ, সংসারের দায়, সব মিলিয়ে শাহীন যেন একা হাতে পাহাড় ঠেলছেন। অন্যের জমিতে কাজ করেন বাবা। শীত এলেই কাজ কমে যায়, আর অভাব তখন আরও প্রকট হয়। পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিলেন শাহীন, কিন্তু ইনজুরির কারণে তিনিও আজ অসহায়।

বিকেএসপিতে অনার্সে পড়ছেন তিনি। কিন্তু সেখানকার খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিয়মিত অনুশীলন, একাডেমির ফি,সবই এখন বিলাসিতা। জীবনের চাপে ভেঙে পড়া এই তরুণ   ভাবতে শুরু করেছেন, ক্রিকেট ছেড়ে স্থায়ী কোনো কাজে ঢুকবেন কি না। স্বপ্ন আর বাস্তবতার সংঘাতে ক্লান্ত শাহীন আজ মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত।

তবে স্বস্তির খবরও আছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাঁকে সহায়তা করার জন্য পরিকল্পনা করছে। শুধু তাই নয়, এগিয়ে এসেছেন তাঁর সতীর্থরাও। আকবর আলীর অধিনায়ক্ত্বে খেলেছেন তিনি, সেই আকবর আলী এবার সতীর্থ দের নিয়ে বন্ধুর স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।

 নির্মম বাস্তবতার শিকল ছিড়ে শাহীনে জন্য বেরিয়ে আসাটা কঠিনই বটে। তবে সবাই মিলে এগিয়ে এলে অনেক কিছুই যে সহজ হয়ে যায়। শাহীন স্বপ্ন থেকে দূরে গিয়েছেন তবে স্বপ্ন দেখা বন্ধ করে দেননি। অন্ধকারের দেয়াল ভেঙে আলো এলে তিনিও যে আবারও অধরা স্বপ্নটা ছুঁইয়ে দেখতে পারেন।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

নেপালে সাকিব-মাহেদীর অম্লমধুর শুরু

একজনের শুরুটা হয়েছিল প্রায় বিদায়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে, অন্যজনের ব্যাটে জমেনি প্রত্যাশার রং। অথচ দিনের শেষে দুজনেরই নাম উঠল পারফরম্যান্সের খাতায়। শেখ মেহেদী হাসান ব্যাট হাতে ২১ বলে ৩২ রানের ঝোড়ো ইনিংসে হিমালয়ের দেশ কাঁপালেন, আর সাকিব আল হাসান বল হাতে চার ওভারে ২৪ রান দিয়ে তুলে নিলেন একটি উইকেট। নেপাল প্রিমিয়ার লিগে পোখারা অ্যাভেঞ্জার্সের জার্সিতে বাংলাদেশের দুই অলরাউন্ডারের অভিষেকটা হলো এমনই! তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের এই প্রাপ্তি শেষ পর্যন্ত ম্লান হলো দলের পরাজয়ে। ১৪৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৬.৫ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে প্রতিপক্ষ সুদূর পশ্চিম রয়্যালস, জিতল ৬ উইকেটে।

Share via
Copy link