১০ ওভার বোলিং করে ৪৭ রান, কোনো উইকেট নেই। খুব খারাপ বলা যাবে না, অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং পারফরম্যান্সকে। কিন্তু, পরিসংখ্যানকে সব সময় সত্যি কথা বলার দিব্যি কে দিয়েছে!
সেটাই এখানে ঘটেছে। শ্রীলঙ্কা যখন ২৯ রানে তিন উইকেট হারিয়ে কাঁপছিল, তখন তাঁদের আরও চাপে ফেলার প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজন ছিল এমন একজন বোলার যিনি প্রতিপক্ষকে মুহূর্তে মুহূর্তে কাঁপিয়ে দিতে পারেন নিজের আক্রমণ দিয়ে। মিরাজ সেই আক্রমণটা করতে পারেননি।
এই দৃশ্যটা একদিনের হয়ে মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু, মিরাজ যে উইকেট বঞ্চিত আছেন টানা পাঁচ ওয়ানডে জুড়েই। বাংলাদেশের যখন তাঁকে সবচেয় বেশি প্রয়োজন তখনই তিনি বারবার ভেঙে পড়ছেন।
অধিনায়কত্ব কখনও চাপ, কখনও বা বাড়তি উদ্দীপনা। যদিও, মেহেদী হাসান মিরাজের ক্ষেত্রে কোনোটাই হল না। তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের উইকেট ক্ষরা অব্যহত রাখলেন।

সেই ২০২৪ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ থেকে মিরাজের বোলিং দূর্দশার সূচনা। সিরিজের শেষ দুই ওয়ানডেতে ছিলেন উইকেট শূন্য। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গিয়েও বল হাতে ব্যর্থ। নিউজিল্যান্ড কিংবা ভারত – কোনো দলের বিপক্ষেই কোনো রকম ব্রেক-থ্রু আনতে পারেননি মিরাজ।
সেই যাত্রাটা শ্রীলঙ্কা যাত্রাতেও টিকে গেল। প্রথমবারের মত পূর্ণকালীন অধিনায়ক হিসেবে এই সিরিজ দিয়েই তিনি বাংলাদেশের দায়িত্ব নিলেন। দায়িত্ব-প্রাপ্তির শুরুতেই আবারও লবডঙ্কা। ১০ ওভার বোলিং করলেন, কোনো উইকেট না পেয়ে হজম করলেন ৪৭ রান।
কেন এমন হচ্ছে? বোলিংয়ে একঘেয়েমি? নাকি বিরতিহীন ক্রিকেটে ফুরিয়ে আসা জ্বালানি? এর মধ্যে উড়ে এসে বসা অধিনায়কত্বও তাঁর ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারল না।
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ছয় বোলার থাকতেই হবে — এটা বিলাসিতা না, বরং ন্যূনতম চাহিদা। কারণ, সবার প্রতিটা দিন এক যাবে না। আর মিরাজ যেখানে টানা ম্যাচের পর ম্যাচ ব্যর্থ হচ্ছেন, সেখানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ষষ্ঠ বোলার ছাড়া বোলিং বিভাগ অচল।

তাই তো বাধ্য হয়ে নাজমুল হোসেন শান্তর মত পার্ট টাইমারকে টানা বোলিং করে যেতে হল, এমনকি ডেথ ওভারেও। অভিষিক্ত তানভির ইসলাম পায়ে ব্যাথা নিয়ে নিজের বোলিং কোটা পূরণ করলেন। নি:সন্দেহে বিপদ বেড়েছে মুস্তাফিজুর রহমান পায়ের চোট নিয়ে মাঠের বাইরে চলে গেলে।
সেখানে মিরাজও উইকেট-বঞ্চিত যখন থাকেন, তখন চাপ বাড়ে। অধিনায়কের এমন ফর্ম দলে কোনো ইতিবাচক বার্তা দেয় না।
দিনের শেষে কারও ‘অফ ডে’ যেতেই পারে, ইনজুরির হানা আসতেই পারে, ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তেও বদল আনতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশ দল এমন এক দলে রূপ নিয়েছে, যেখানে অলরাউন্ডার দরকার নেই। দরকার নেই বলেই মিরাজ আছেন, আর
সাকিব আল হাসান দীর্ঘদিন মিডল ওভারে বোলিংয়ের ছন্দ ধরে রেখেছেন — ব্রেক থ্রু এনে দিতেন, জুটি ভাঙতেন, খেলায় ফিরিয়ে আনতেন দলকে। সেই জায়গাতেই এখন মেহেদী হাসান মিরাজ খেলছেন। কিন্তু, সাকিবের রোলে তিনি সাকিব-সুলভ নন।

সাকিবের ছায়া হয়ে মাঠে নামা মানে শুধু অভিজ্ঞতা দেখানো নয়, প্রভাব রাখাও জরুরি। অথচ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে প্রমাণ রাখা অলরাউন্ডারের কোনো জায়গা হয় না মিরাজের জন্যই!










