পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সাথে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভির বৈঠক ঘিরে বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছিল আগ্রহ। তবে হতাশার খবর হচ্ছে, সেই আগ্রহের সমাপ্তি ঘটায়নি পাকিস্তান। বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়ে চূড়ান্ত ফয়সালা এখনও নেয়নি পাকিস্তান সরকার প্রধান।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে, হুঙ্কার দিয়েছিল পিসিবি। নানা মাধ্যম থেকে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল পাকিস্তানও বয়কট করতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দশম আসর। সেজন্য অবশ্য পিসিবি প্রধান নাকভি অপেক্ষায় ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার।
অবশেষে কাঙ্খিত সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহসিন নাকভি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি ছবি প্রকাশ করেছেন সেই বৈঠকের। সেই ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। সেখানে আমি তাকে আইসিসি–সংক্রান্ত বিষয়টি বিস্তারিতভাবে অবহিত করি। তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন, সবরকম বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টির সমাধান করতে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুক্রবার অথবা আগামী সোমবার।’

অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত চূড়ান্তে সিদ্ধান্তে উপনীত হয়নি পাকিস্তান। আগামী শুক্রবার কিংবা সোমবার তারা নিজেদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। অথচ বিশ্বকাপের আর বাকি রয়েছে হাতে গোনা ১২টি দিন। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পক্ষে পাকিস্তান কোন পদক্ষেপ নেবে কি-না সে বিষয়টি চূড়ান্ত করতে পারেনি দেশটি।
অথচ ইতোমধ্যেই তারা, বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করে দিয়েছে। জার্সি উন্মোচনের ঘোষণাও এসে গেছে দেশটির ক্রিকেট সংস্থার পক্ষ থেকে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মনে হচ্ছে- শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশের পক্ষে স্রেফ বাংলাদেশই থাকবে। বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ শেষমেশ পাকিস্তানও হাতছাড়া করতে চাইবে না।
অথচ এদিন সারাদিন ধরেই, পাকিস্তানি গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে নানামুখী গুঞ্জন ভেসে বেড়িয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে। যেখানে বিশ্বকাপ বয়কটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, আরও বেশকিছু পদক্ষেপের পথে হাটবে পাকিস্তান- সে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল পাকিস্তান-ভারত মহারণ। বিশ্বকাপে সেই ম্যাচটি বয়কট করতে পারে পাকিস্তান সেই গুঞ্জনও চাওড় হয়েছিল।

তবে তেমন কোন কড়াকড়ি পদক্ষেপে যে পাকিস্তান যাচ্ছে না, সে ইঙ্গিত মিলছে, ‘সবরকম বিকল্প খোলা রেখে বিষয়টির সমাধান করতে’ এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। সুতরাং বাংলাদেশের সমর্থকদের পাকিস্তানের দিকে আর আশার দৃষ্টিতে তাকিয়ে না থাকাই বরং শ্রেয়।











