ঝড়ের গতিতে রান তুলতে হবে? ভয় কি, রজত পাতিদার তো আছেনই। দল ঘোরতর বিপদে, ইনিংস গড়তে হবে? রজত তো আছেনই, ও সব বুঝে নেবে। পরিস্থিতি যাইহোক, চাহিদা যেমন থাকুক, পাতিদার সময়ের দাবি মেনেই ব্যাট চালান। কখনও তিনি ঝড়, কখনো চৈত্রের খরার মাঝে স্বস্তির বাতাস।
প্রথম দুই ম্যাচে উইকেটে এসেছেন ভিন্ন রূপে। সে সময় দলের চাহিদা ছিল অন্যরকম। তাই তো ফিনিশারের চরিত্র ধারণ করেছেন নিজের ভেতর। অবশ্য টপ অর্ডার ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতের মুঠোয় রেখেছিল, পাতিদার কেবল আগ্রাসনের প্রলেপ দিয়েছেন তার উপর।
তবে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে হিসাবটা ছিল বড্ড গোলমেলে। শুরুতেই ধাক্কা, একটু উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা যখন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু শুরু করেছে, তখনই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে ব্যাটিং অর্ডার। ৭৬ রানে পাঁচ উইকেট হারানো দলটা যেন ম্যাচটাই হারিয়ে ফেলেছে তখনই।

তবে সব গল্প শুরুতেই শেষ হয় না। গল্পে নায়ক থাকে, যিনি সবকিছু নিজের করে নেন। সমস্ত বাধা-বিপত্তি জয় করে ফেলেন অনায়াসে। রজত পাতিদার আজকে সেই নায়কোচিত ইনিংস খেললেন। ভগ্নস্তূপ থেকে দলকে টেনে তুললেন একার হাতে।
তবে ওই যে চরিত্রের যে বদল ঘটালেন, সেটাই এই ইনিংসটাকে বিশেষায়িত করেছে। একপ্রান্তে যখন ভেঙে পড়ছে উইকেট, অপর পাশে পাতিদার আগলে রেখেছেন, বোলারদের বিপক্ষে এক দুর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রথম ২২ বলে রান করেছেন মোটে ২২। তিনি জানতেন, সময়টা অনুকূলে নেই। এখন দাঁতে দাঁত চেপে পড়ে থাকাই শ্রেয়। যেই ভাবা, সেই কাজ।
এরপর একটু একটু করে খোলস ছেড়ে বেরিয়েছেন। সবকিছু আয়ত্তে আসতে যখন শুরু করেছে, তখনই মোক্ষম চালটা দিলেন। আগ্রাসনের ফুলকি ছড়ালেন ব্যাট হাতে। শেষমেষ ইনিংস দাঁড়িয়েছে ৪০ বলে ৬৩ রানের। চার নম্বর পজিশনের গুরুদায়িত্ব যেভাবে সামলাতে হয়, নিখুঁতভাবে সেটাই করেছেন।

পাওয়ার হিটিংটা ডিএনএতেই আছে, পাতিদার সেটার প্রয়োগ করেছেন এতদিন। তবে আরও সত্তা বেরিয়ে এলো দলের বিপদে। পাতিদার কেবল ফিনিশার নন, নাম্বার ফোরের জন্যও সেরা নাম।
Share via:











