ঘরোয়া নয়, আর্ন্তজাতিক ক্রিকেটই সাকিবের বিবেচনা

নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেন সাকিব আল হাসান। শুধু কি ফিরলেন? একেবারে রাজকীয় ভাবে ফিরলেন। প্রত্যাবর্তনে সাকিবের রাজসিক পারফর্মই বলে দিচ্ছে ক্যারিয়ারের অনেক বড় ঝড় সামলে আসলেও সাকিব আছেন সেই আগের জায়গাতেই।

ফিরে সাকিব বলেছেন, ঘরোয়া ক্রিকেট নয়, এরকম দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার মঞ্চকেই তিনি গুরুত্বপূর্ন মনে করেন।

আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেও সাকিব প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরেছিলেন আরো আগেই। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ দিয়ে ক্রিকেটে ফিরে সাকিবের পারফর্ম ছিলো খুবই সাদামাটা। টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ৯ ম্যাচে ১২.২২ গড়ে করেছিলেন মাত্র ১১০ রান। যেখানে সর্বোচ্চ রান ছিলো ২৮। আর বল হাতে নিয়েছিলেন ৬ উইকেট।

সাকিবের পারফর্ম নিয়ে সমালোচনাও হয়েছিলো তখন। আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬ উইকেটে হারানোর ম্যাচে বল হাতে ৭.২ ওভারে ৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ও ব্যাট হাতে ১৯ রান করে ম্যাচ সেরা হয়েছেন সাকিব। ম্যাচ সেরার পুরুস্কার নিতে এসে সাকিব জানিয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটের হিসাব বিবেচনায় আনেননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘সত্যিই বলতে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে আমি ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স হিসেবে রাখি না। ড্রেসিং রুমের বাইরের মানুষজন হয়ত এসব পারফরম‌্যান্স নিয়ে ভাবে। আমি মনে করি আমি ভালো ব্যাটিং করেছিলাম এবং আউট হয়ে গেছি। পরের ম্যাচে আমাকে আরো ভালো করতে হবে।’

আজ বল হাতে সাকিব ছিলেন অসাধারণ। তাকে দেখে একবারের জন্যও মনে হয়নি প্রায় দেড় বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন তিনি। নিজের ট্রেড মার্ক ডেলিভারি আর্ম বলে যেমন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যানদের স্ট্যাম্প উপড়ে ফেলেছেন তেমনি টানা এক জায়গাতে বল করে দিয়েছেন মাত্র ৮ রান।

সাকিব জানিয়েছেন মিরপুরের উইকেটও তাকে সাহায্য করেছে প্রবল ভাবে। ম্যাচ শেষে সাকিব বলেন,  ‘ঠিক জায়গায় বল করাতেই মনোযোগ দিয়েছি, বাকি কাজ পিচই করে দিয়েছে। এভাবেই আসলে হয়েছে।’

দীর্ঘ দিন পর আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে নেমেছিলো বাংলাদেশ। খর্ব শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়টা প্রত্যাশিত থাকলেও সাকিব জানিয়েছেন ম্যাচের আগে নার্ভাস ছিলেন সবাই। তবে সাকিব বিশ্বাস করেন আজকের জয় প্রশান্তি দেবে তাদের।

সাকিব জানান, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। এতদিন পর মাঠে ফেরা নিয়ে ম্যাচ শুরুর আগে আমরা সবাই কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। তবে আমি মনে করি আজকের জয় আমাদের প্রশান্তি দিবে এবং পরের ম্যাচেও ভালো করতে সহায়তা করবে।’

এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বর্তমান দলে এক ঝাক সেরা খেলোয়াড় নেই বলে এটাকে অনেকে দুর্বল দল বলছেন। সাকিব একটু মজা করেই উত্তর দিলেন, ‘আমরা ওদের মূল দলকে এখানে হারিয়েছি, ওদের দেশে গিয়ে হারিয়ে এসেছি এবং বিশ্বকাপে হারিয়েছি। সে জন্যই হয়তো ভালো ফল করার জন্য ওরা এই দলটাকে পাঠিয়েছে।’

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Share via
Copy link