‘বিরাট’ মোহনায় এক হলেন অক্ষর-ধোনি

ওভার টু ইউ বিরাট - পুরো ম্যাচ দলের হাল ধরে রাখার পর এতটুকু প্রাপ্যই ছিল এই মহারথীর। যে মুগ্ধতা আর সম্মান নিয়ে ধোনি, অক্ষররা তাঁকে সুযোগ করে দিয়েছেন ম্যাচ শেষ করার সেটা আজন্ম হাইলাইটস হয়ে থাকবে। এসব দৃশ্য বিরাটের শ্রেষ্ঠত্ব জানার উপায়ও বটে।

২০১৪ থেকে ২০২৫ – অনেকগুলো ক্যালেন্ডার এসেছে আবার চলে গিয়েছে, সময়ের সাথে সাথে বদলও এসেছে অনেক কিছুতে। তবে বদলায়নি বিরাট কোহলির মাহাত্ম্য; বদলায়নি তাঁর ম্যাচ জেতানোর ক্ষুধা। ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আর ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পাশাপাশি রেখে তুলনা করলেই স্পষ্ট হবে সেটা; যথাক্রমে অক্ষর প্যাটেল এবং মহেন্দ্র সিং ধোনি বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন বিরাটকে।

মিরপুরে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সেবার দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত; আগে ব্যাট করে ১৭৩ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় প্রোটিয়ারা। স্লো উইকেটে বিরাট তখন হয়ে উঠেছিলেন ভারতের ত্রাতা, ৪৪ বলে ৭২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন তিনি। তবে ম্যাচ জয়ের পর আলোড়ন তুলেছিল মহেন্দ্র সিং ধোনির ছোট্ট একটা কাজ।

জয়ের জন্য তখন সাত বলে এক রান বাকি, ধোনি চাইলে ওভারের শেষ বলে খেলা শেষ করতে পারতেন কিন্তু তিনি বাজে বল পেয়েও টেস্ট স্টাইলে ডট দিলেন। এরপর কোহলি স্ট্রাইকে এসে ম্যাচ শেষ করলেন রাজার মত – ধোনি সহ পুরো টিম ইন্ডিয়া বোধহয় এই দৃশ্যটাই দেখতে চেয়েছিল।

এগারো বছর পর অক্ষর প্যাটেল ফিরিয়ে আনলেন এমএসডির স্মৃতি, পাকিস্তানের বিপক্ষে অনবদ্য এক ইনিংস খেলে জয় নিশ্চিত করেছিলেন কোহলি। তাই তাঁকেই উইনিং শট খেলার সুযোগ করে দেন অক্ষর, সেই সাথে সুযোগ করে দেন সেঞ্চুরি করার। যথা আজ্ঞা, চার হাঁকিয়ে কোহলি পূর্ণ করেন সমর্থকদের মনোবাসনা।

শুধু এসব নয়, দুই ঘটনার মাঝে মিল আছে আরো অনেক কিছুতে। দুই প্রান্তের দুই ব্যাটারের খুনসুটি, কোহলির মিষ্টি হাসি কিংবা ড্রেসিংরুমে থাকা রোহিত শর্মার উচ্ছ্বাস; পুনঃপ্রচার বললে ভুল হবে না খুব একটা।

ওভার টু ইউ বিরাট – পুরো ম্যাচ দলের হাল ধরে রাখার পর এতটুকু প্রাপ্যই ছিল এই মহারথীর। যে মুগ্ধতা আর সম্মান নিয়ে ধোনি, অক্ষররা তাঁকে সুযোগ করে দিয়েছেন ম্যাচ শেষ করার সেটা আজন্ম হাইলাইটস হয়ে থাকবে। এসব দৃশ্য বিরাটের শ্রেষ্ঠত্ব জানার উপায়ও বটে।

Share via
Copy link