হাতের জোর, টাইমিং আর প্লেসমেন্টে মুগ্ধ সিলেটের গ্যালারি। অথচ সেই হাত দিয়েই কত শত মানুষের জন্য বানিয়েছেন চা। ভাগ্যের অন্বেষণে, জীবিকার তাগিদে চা-পান-বিস্কুট বিক্রি করেই চলছিল তাঁর দিন। এখন সেই হাতেই ধরা পড়েছে ব্যাট, আর তাতেই ধরা দিচ্ছে নতুন স্বপ্ন। এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে চা-ওয়ালা ইকবাল হোসেন হয়ে উঠছেন অলরাউন্ডার ইকবাল।
প্রথম ম্যাচে মাত্র ছয় বলে অপরাজিত ১৬ রান। দ্বিতীয় ম্যাচেই অর্ধশতকের দেখা। এনসিএলের মঞ্চে একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ইকবাল হোসেন। মাত্র ২২ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার রংপুরের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝেই ঠান্ডা মাথায় ৪৫ বলে তুলে নিলেন দারুণ এক ফিফটি।
ঠাকুরগাঁওয়ের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা ইকবালের গল্পটা অন্যরকম। দিনমজুর পরিবারের সন্তান, বাড়ি থেকে ১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে প্রতিদিন জেলা স্টেডিয়ামে প্র্যাকটিস করতে আসেন তিনি।

দুইবার অনূর্ধ্ব-১৮ দলে খেলার সুযোগ পেলেও প্রমাণ করতে পারেননি। ভরসা ছিল একটাই—ঢাকা লিগ কিংবা এনসিএলের মতো বড় মঞ্চ। পরিবারের আর্থিক সঙ্গতি ছিল না, পেটের দায়ে দোকানে চা-পান, বিস্কুট বিক্রি করতেন।
ইকবাল শুধু ব্যাট হাতে নয়, বল হাতেও চমক দেখাতে পারেন। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান হলেও বল হাতে তিনি করেন স্পিন—কখনো অফস্পিন, কখনো লেগস্পিন, এমনকি গুগলির চেষ্টাও রয়েছে তার অস্ত্রাগারে।
অভিষেক ম্যাচেই ছোট্ট ক্যামিওতে নজর কাড়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচের ইনিংস যেন প্রমাণ দিলো—ইকবাল শুধু প্রতিশ্রুতিই নন, বাস্তবেও ভরসা হতে পারেন। তার শটে ক্রিকেটীয় সৌন্দর্যের সঙ্গে জুড়ে ছিল শক্তির প্রকাশ।

এনসিএল ঠিক এই কারণেই মূল্যবান—প্রান্তিক অঞ্চল থেকে উঠে আসা মেধাবী ক্রিকেটারদের নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ খুব দরকার ছিল। চা-পান-বিস্কুট বিক্রি করে, বাড়ি থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে গিয়ে অনুশীলন করেও দমে যাননি ইকবাল।
লড়াই করে ঠাকুরগাঁওয়ের এই তরুণ হয়ে উঠেছেন এক সত্যিকারের অলরাউন্ডার। ইকবাল হোসেনের মতো ক্রিকেটাররা শুধু জেলা নয়, একদিন জাতীয় মঞ্চেও উজ্জ্বল করবেন—এই বিশ্বাস আরও বাড়ুক এনসিএলের সৌজন্যে।










