মিরাজদের ব্যর্থতা দেখেই দিন কাটে আরিফুলদের

মিরাজরা ব্যর্থ হয়ে বারংবার আফসোস বাড়ায়, আরিফুলরা থাকলে ভিন্ন হত দৃশ্যপট সে ভাবনার সঞ্চার ঘটায়।

ব্যাটিং অর্ডারে নিজেকে দুইদিন প্রমোট করলেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, দুইদিনই ব্যর্থ তিনি। অন্যদিকে আরিফুল ইসলামের মত তরুণ প্রতিভা সাইডবেঞ্চে বসে বসে সম্ভাবনা পঁচে যাওয়ার অপেক্ষার প্রহর গুণছে। কি অভাগা এক চরিত্র তিনি!

ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাটিংয়ে এসেছিলেন দলের তিন নম্বর ব্যাটার হিসেবে। সাত বলে ছয় রান করে তিনি ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষেও সেই একই কাজ করলেন তিনি। এলেন তিনে, ফিরলেন ছয় বলে চার রান করে। এমন ব্যর্থতার পরও নিজেকে হয়ত পরের ম্যাচে উপরেই দিকেই ঠেলে দেবেন। পাওয়ার প্লে-তে গত মৌসুমটা তার ভাল কেটেছে বলে।

অথচ টিম কম্বিনেশনের অযুহাতে আরিফুল ইসলামরা একটা ম্যাচও খেলার সুযোগ পাবেন না। ২০২৪ সালের এনসিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে আরিফুল ঢাকা বিভাগের হয়ে ২১৩ রান করেছিলেন ১৪২ স্ট্রাইকরেটে। এরপর তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও দল পেয়েছিলেন। চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালের হয়ে একটি ম্যাচেও মাঠে নামা হয়নি তার।

 

বরিশালের অধিনায়ক সেবার ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন ‘টিম কম্বিনেশন’। এদফা বিপিএল নিলামের আগেই অবশ্য এনসিএল টি-টোয়েন্টি হয়েছে মঞ্চস্থ। গত আসরের মত ততটাও আলোর প্রজ্জ্বলন ঘটাতে পারেননি আরিফুল। ছয় ম্যাচে ১৬৮ করেন তিনি ১২৫ এর একটু বেশি স্ট্রাইকরেটে।

তবে তিনি সম্ভাবনাময় একজন ক্রিকেটার। সেই ভাবনা থেকেই সিলেট টাইটান্স ভিড়িয়েছিল তাকে নিজেদের ডেরায়। কিন্তু ভাগ্যবদল আর হয়নি তার। দেশের একমাত্র ফ্রাঞ্চাইজি ভিত্তিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টে নিজেকে বিকশিত করবার সুযোগই মিলছে না। আগামী দিনের কাণ্ডারি যাদের হওয়ার কথা, তারাই বরং নিষ্পেষিত থেকে যাচ্ছেন।

স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন চলে আসে, বিপিএলের উদ্দেশ্য কি আদোতে হাসিল হচ্ছে? তরুণ ক্রিকেটারদের দিন কেটে যায় সাইডবেঞ্চে বসে, টিম কম্বিনেশনের কারণে আন্ডারপারফরমার খেলে যাচ্ছেন দিনের পর দিন। মিরাজরা ব্যর্থ হয়ে বারংবার আফসোস বাড়ায়, আরিফুলরা থাকলে ভিন্ন হত দৃশ্যপট সে ভাবনার সঞ্চার ঘটায়।

Share via
Copy link