বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচের শূন্যস্থান পূরণের প্রহর প্রায় শেষ। জামাল-হামজারা ডাগআউটে কার নির্দেশনায় খেলবেন, তা নিয়ে গুঞ্জন এখন তুঙ্গে। দেশি-বিদেশি হাই প্রোফাইল কোচদের ভিড়ে সব ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একজন। ব্রাজিলিয়ান মাস্টারমাইন্ড রোজারিও মিকেল।
রোজারিও মিকেল সাধারণ কোনো নাম নন। তাঁর হাত ধরে ব্রাজিল জিতেছে অলিম্পিকের স্বর্ণপদক। বিশ্বফুটবলের মহাতারকা নেইমার জুনিয়রকে গড়ে তোলার পেছনেও রয়েছে তাঁর অনস্বীকার্য অবদান। ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-২৩ দল ছাড়াও কাজ করেছেন সৌদি ক্লাব আল হিলালের মতো দাপুটে দলের সাথে।
রোজারিও মিকেলের মতো হাই-প্রোফাইল কোচকে আনার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছিল তাঁর বিশাল অঙ্কের বেতন। সাবেক কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার সময় বাফুফে কোচের পেছনে মাসিক ১৩ থেকে ১৫ হাজার ডলার খরচ করত। তবে এখন সেই সীমা বাড়াতে প্রস্তুত ফেডারেশন।

বাফুফের টেকনিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান কামরুল হাসান হিলটন জানিয়েছেন, কোচের বেতন ২৫ থেকে ৩০ হাজার ডলার পর্যন্ত উন্নীত করার কথা ভাবছে বোর্ড। যদিও মিকেলের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী এই অঙ্কও কিছুটা কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সমস্যার সমাধানে আশার বাণী দিচ্ছেন নেইমারের বাবার বাংলাদেশি ম্যানেজার রবিন মিয়া। তার উদ্যোগেই মূলত নেইমার সিনিয়রের রেফারেন্সে রোজারিও মিকেলের নাম সামনে আসে।
দেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ সুখবর দিয়েছেন তিনি। বাফুফে যদি মিকেলের কাঙ্ক্ষিত বেতন দিতে হিমশিম খায়, তবে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এগিয়ে আসবে নেইমার সিনিয়রের কোম্পানি।

বাফুফের বাজেটের বাইরে বেতনের অতিরিক্ত অংশ নেইমার সিনিয়রের প্রতিষ্ঠান থেকেই পরিশোধ করার কথা রয়েছে। যদি এই সমীকরণ বাস্তবে রূপ পায়, তবে বাংলাদেশের ফুটবলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে।
রোজারিও মিকেলের মতো অভিজ্ঞ কোচ যদি শেষ পর্যন্ত ডাগ-আউটে দাঁড়ান, তবে তা কেবল একটি নিয়োগ হবে না। বরং বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য হবে এক ঐতিহাসিক বাঁকবদল।











