গ্লাভসে লুকানো ব্লেড দিয়ে কপাল কাটেন গোলরক্ষক

নিজের কপাল নিজে ব্লেড দিয়ে চিরে ফেলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা! অবিশ্বাস্য মনে হলেও ১৯৯০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন চিলির গোলরক্ষক রবার্তো রোজাস।

ফুটবল মাঠে চোট পাওয়া নতুন কিছু নয়। কিন্তু নিজের কপাল নিজে ব্লেড দিয়ে চিরে ফেলে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা! অবিশ্বাস্য মনে হলেও ১৯৯০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ঠিক এই কাজটিই করেছিলেন চিলির গোলরক্ষক রবার্তো রোজাস। ফুটবলের ইতিহাসে যা আজও অন্যতম নিকৃষ্ট প্রতারণা হিসেবে গণ্য করা হয়।

১৯৮৯ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করতে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল ও চিলি। ম্যাচের বয়স তখন ৬৭ মিনিট, ব্রাজিল ১-০ গোলে এগিয়ে। এমন সময় গ্যালারি থেকে একটি জ্বলন্ত পটকা  উড়ে এসে পড়ে চিলির গোলরক্ষক রবার্তো রোজাসের ঠিক পাশে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় চারপাশ। ধোঁয়া সরতেই দেখা গেল এক বীভৎস দৃশ্য। রোজাস রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠে লুটিয়ে আছেন, তার কপাল বেয়ে ঝরছে রক্ত!

রোজাসের রক্তাক্ত চেহারা দেখে চিলির খেলোয়াড়রা নিরাপত্তার অজুহাত তুলে মাঠ ছেড়ে চলে যান। ফুটবল বিশ্বে শোরগোল পড়ে গেল। ব্রাজিল কি তবে ফিফার নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে? গ্যালারি থেকে ছোঁড়া পটকায় একজন খেলোয়াড় রক্তাক্ত, এমন অভিযোগে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্বপ্ন তখন সুতোয় ঝুলছে।

তবে, ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশন দমে যায়নি। তারা ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করে। ফিফার তদন্ত কর্মকর্তারা শত শত আলোকচিত্র এবং ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করেন। আর সেখানেই বেরিয়ে আসে গা শিউরে ওঠা সত্য। উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরার জুম করা ছবিতে দেখা যায়, পটকাটি রোজাসের শরীরে স্পর্শই করেনি। সেটি অন্তত কয়েক ফুট দূরে পড়েছিল।

​তাহলে রক্ত এল কোথা থেকে? তদন্তে বেরিয়ে এল এক হাড়হিম করা তথ্য। রোজাস আগে থেকেই তার গ্লাভসের ভেতর একটি ছোট ব্লেড লুকিয়ে রেখেছিলেন। পটকা পড়ার সাথে সাথে ধোঁয়ার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজেই নিজের কপাল চিরে ফেলেন, যাতে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয় এবং ব্রাজিলকে দোষী সাব্যস্ত করে চিলিকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

এই ধূর্ত জালিয়াতি উদঘাটিত হওয়ার পর ফিফার খড়গ নেমে আসে অত্যন্ত কঠোরভাবে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা রবার্তো রোজাসকে ফুটবল থেকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে, যা একজন পেশাদার খেলোয়াড়ের জন্য ছিল মৃত্যুদণ্ডের সমান।

শুধু রোজাস নন, তার এই পাপের মাশুল গুনতে হয় পুরো চিলি ফুটবল দলকে। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া থেকে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়।

জয়ের নেশা যখন অন্ধ লালসায় রূপ নেয়, তখন বীরও ভিলেনে পরিণত হয়। সেদিন ব্লেড দিয়ে তিনি শুধু নিজের কপাল নয়, বরং ফুটবলের সততাকেই চিরে ফেলেছিলেন। গ্লাভসে লুকানো সেই ছোট্ট ব্লেডটি হয়তো সাময়িক সহানুভূতি এনেছিল, কিন্তু চিরতরে কেড়ে নিয়েছিল তার ক্যারিয়ার আর সম্মান।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link