ফুটবল জাদুকরের শেষ অভিযান

২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়। এটি হতে পারে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সবথেকে গৌরবময় অধ্যায়।

কাতার বিশ্বকাপে সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পর অনেকেই ভেবেছিলেন এটাই শেষ। কিন্তু ৩৯ ছুঁইছুঁই সেই জাদুকর আবারও বুট পায়ে প্রস্তুত। উত্তর আমেরিকার সবুজ গালিচায় তিনি লিখতে চান নতুন ইতিহাস। ২০২৬ বিশ্বকাপ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়। এটি হতে পারে লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সবথেকে গৌরবময় অধ্যায়।

​অনেকেই ভেবেছিলেন বয়স তাঁকে থামিয়ে দেবে। কিন্তু চার বছর আগের সেই শিরোপা ক্ষুধা আজও কমেনি। ভক্তদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। লিওনেল মেসি কি পারবেন আর্জেন্টিনাকে আবারও বিশ্বসেরা করতে?

বিশ্বকাপের সুদীর্ঘ ইতিহাসে কোনো অধিনায়কই রেকর্ডটি গড়তে পারেননি। নিজ দেশকে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতানো অধিনায়ক এখনও অধরা। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।

কিন্তু প্রতিবারই তাদের অধিনায়ক ছিল ভিন্ন। মেসি যদি এবার ট্রফি ধরে রাখতে পারেন, তবে তিনিই হবেন ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার। যিনি অধিনায়ক হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরবেন।

অন্যদিকে গোলের নেশা তো মেসির রক্তে। এবার তাঁর লক্ষ্য জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসেকে ছাড়িয়ে যাওয়া। বিশ্বকাপে ক্লোসের গোল ১৬টি। অন্যদিকে মেসির গোল সংখ্যা ১৩। আর মাত্র চারটি গোল করলেই তিনি হবেন বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বর্তমান ছন্দে থাকা মেসির জন্য এই পথ পাড়ি দেওয়া মোটেও কঠিন নয়।

বিশ্বকাপ ফাইনালের বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ডটি এখন সুইডিশ কিংবদন্তি নিলস লিডহোমের দখলে। ১৯৫৮ সালে ৩৫ বছর বয়সে তিনি গোল করেছিলেন। ২০২৬ এর ফাইনালে যদি আর্জেন্টিনা পৌঁছায় এবং মেসি গোল করেন, তবে ৩৯ বছর বয়সে তিনি এক নতুন ইতিহাস গড়বেন।

মাঠের লড়াই শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। কোটি ভক্ত এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে। তারা অপেক্ষা করছে সেই জাদুর কাঠির ছোঁয়ার জন্য। মেসি কি পারবেন আরও একবার আর্জেন্টিনাকে উৎসবে ভাসাতে?

​পরিসংখ্যান বলছে, সম্ভাবনা প্রবল। ইতিহাস বলছে, তিনি হার মানতে জানেন না। আর ফুটবল প্রেমীদের বিশ্বাস –  ফুটবল ঈশ্বর নিশ্চয়ই তাঁর প্রিয় বরপুত্রের এই মহাকাব্যের শেষ লাইনে নাটকীয় কিছু লিখে রেখেছেন।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link