ইউরোপে খেলছে নাকি নিজেদের ঘরের মাটিতে, আলাদা করে বলে না দিলে অনেকে বুঝতেই পারতেন না। পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে আর পতাকা হাতে ফুটবলপ্রেমীরা আসলে ছিলেন সান মারিনোর মাঠে। ইউরোপে মাঠে প্রথম খেলতে নেমে জিতে আসা ম্যাচে বিস্মিত করেছে এত সমর্থকের উপস্থিতি।
ফিফার র্যাংকিংয়ের একেবারে তলানিতে থাকা সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়টা প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু, অবাক করেছে গ্যালারির সেই চেনা দৃশ্য। মাত্র ৩৩ হাজার জনসংখ্যার এই ছোট্ট দেশে খুব বেশি বাংলাদেশির থাকার কথা ছিল না, অথচ স্টেডিয়ামের আবহে মনে হচ্ছিল ম্যাচটি হচ্ছে দেশের কোনো স্টেডিয়ামে।

মূল রহস্য অবশ্য লুকিয়ে স্যান মারিনোর ভৌগোলিক অবস্থানে। ছোট এই দেশটি নিজেদের চারিদিক থেকে ইতালির সীমানা দিয়ে ঘেরা। আর ইতালিতে থাকেন লক্ষাধিক বাংলাদেশী অভিবাসীরা। ফুটবলপ্রেমী অভিবাসীরা প্রিয় বাংলাদেশের টানে সীমান্ত পেরিয়ে ছুটে এসেছিলেন সান মারিনোর এই স্টেডিয়ামে, গ্যালারিকে রাঙিয়ে তুলতে।
ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে শেষের বাঁশি বাজা পর্যন্ত দর্শকদের সেই গগনবিদারী কণ্ঠ স্তব্ধ হতে দেয়নি স্যান মারিনোর চেনা মাঠকে। লাল-সবুজের পতাকা উঁচিয়ে তাঁরা যেভাবে প্রিয় দলকে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, তা দেখে মনে হচ্ছিল দূর প্রবাসেও ফুটবল কতটা গভীর আবেগের নাম।

মাঠে যখন ডিফেন্ডার তপু বর্মন একে একে দুটি গোল করলেন, তখন গ্যালারির সেই বাঁধভাঙা উল্লাস যেন স্যান মারিনোর আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে দিয়েছিল। ২-১ গোলের জয়ের পর ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের দর্শকদের মুখের সেই চিলতে হাসি আর আনন্দের অশ্রু তাই আবেগতাড়িত করে তুলবেই।










