আবারও থেমে গেল সময়। গ্যালারিতে হঠাৎ নেমে এল অদ্ভুত এক নীরবতা। হাজার হাজার মানুষের বুকের ভেতর একসঙ্গে ফিরে এল পাঁচ বছর আগের একটি বিকেল। ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন আবার থেমে গেলেন।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আবারও ফিরে এল এক আতঙ্কের মুহূর্ত। ইউক্রেনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ চলাকালে হঠাৎ মাঠে লুটিয়ে পড়েন ডেনিশ মিডফিল্ডার ক্রিশ্চিয়ান এরিকসেন। তবে স্বস্তির খবর হল, তিনি দ্রুত জ্ঞান ফিরে পেয়েছেন, নিজেই হেঁটে মাঠ ছেড়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

রোববার ওডেন্সে অনুষ্ঠিত ডেনমার্ক-ইউক্রেন প্রীতি ম্যাচের ৬৫তম মিনিটে কোনো ধরনের সংঘর্ষ ছাড়াই হঠাৎ মাটিতে পড়ে যান ৩৪ বছর বয়সী এরিকসেন। সঙ্গে সঙ্গে মাঠে ছুটে আসেন চিকিৎসাকর্মীরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দুই দলের খেলোয়াড়রাও তাকে ঘিরে একটি মানববেষ্টনী তৈরি করেন, যাতে নির্বিঘ্নে চিকিৎসা দেওয়া যায় এবং তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হয়।
ঘটনার পর ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। তখন ডেনমার্ক ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল। এরিকসেনের মাঠে পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলবিশ্বকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। কারণ, ২০২১ সালে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ফিনল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে মাঠেই হৃদরোগজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। সেদিন জরুরি হৃদযন্ত্র পুনরুজ্জীবন প্রক্রিয়া (সিপিআর) এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মাধ্যমে তার জীবন রক্ষা করা হয়।

পরে তার শরীরে একটি বিশেষ হৃদযন্ত্র-সহায়ক যন্ত্র স্থাপন করা হয়, যা হৃদস্পন্দনের বিপজ্জনক অস্বাভাবিকতা শনাক্ত করে প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে। সেই যন্ত্রের সহায়তায় তিনি আবারও পেশাদার ফুটবলে ফিরেছিলেন।
ডেনমার্ক জাতীয় দলের চিকিৎসক মর্টেন বোসেন জানিয়েছেন, এরিকসেন অল্প সময়ের জন্য জ্ঞান হারিয়েছিলেন, তবে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদযন্ত্রের সহায়ক যন্ত্রটি সঠিকভাবে কাজ করেছে। চিকিৎসকরা দ্রুত তাঁকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পেরেছেন।

ডেনিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও নিশ্চিত করেছে যে এরিকসেন বর্তমানে ভাল আছেন, এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, সেখানে কিছু ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি আবারও এরিকসেনের ভবিষ্যৎ ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২১ সালের সংকটময় ঘটনার পর তার মাঠে ফেরা বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক প্রত্যাবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ব্রেন্টফোর্ড, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং পরবর্তীতে ভলফসবুর্গের হয়ে সফলভাবে খেলেছেন তিনি। তবে, নতুন এই শারীরিক জটিলতা তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।











