স্ট্যান্ডবাই থেকে বিশ্বকাপ নায়ক, ওহ হিউন-গিউ

৮০ মিনিটে হোয়াং ইন-বিওমের ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা দ্রুতগতির ক্রসে বক্সের ভেতরে নিখুঁত টাইমিংয়ে স্লাইড করে বল জালে জড়িয়ে দেন ওহ। কোরিয়া এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে, আর আনন্দে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।

চার  বছর শুধু অপেক্ষায় কেটেছে ওহ হিউন-গিউয়ের। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার মূল দলে জায়গা হয়নি তার। স্ট্যান্ডবাই তালিকায় নাম লিখিয়ে পুরো আসর দেখেছেন দূর থেকে, মাঠে নামার সুযোগ মেলেনি, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগও নয়।

আজ রাতে সেই অপেক্ষার জবাব দিলেন তিনি মাত্র একটি গোলেই।

গোয়াদালাহারার এস্তাদিও আক্রনে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক রিপাবলিকের ম্যাচটি ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে থেকেও ৫৯ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে কোরিয়া। চেক রিপাবলিকের অধিনায়ক লাদিস্লাভ ক্রেইচির দুর্দান্ত হেডে এগিয়ে যায় ইউরোপের দলটি। সন হিউং-মিনদের সামনে তখন ভর করছে হারের শঙ্কা।

তবে ৬৭ মিনিটে হোয়াং ইন-বিওম দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে নিখুঁত লফটেড শটে সমতা ফেরান। ম্যাচে ফিরে আসে কোরিয়া। এরপর ৭৭ মিনিটে টমাস সাউচেকের হেডে চেক রিপাবলিক আবারও জাল খুঁজে পেলেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের মুহূর্তে বেঞ্চ থেকে মাঠে নামেন ওহ হিউন-গিউ।

৮০ মিনিটে হোয়াং ইন-বিওমের ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা দ্রুতগতির ক্রসে বক্সের ভেতরে নিখুঁত টাইমিংয়ে স্লাইড করে বল জালে জড়িয়ে দেন ওহ। কোরিয়া এগিয়ে যায় ২-১ ব্যবধানে, আর আনন্দে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম।

এটাই ওহ হিউন-গিউয়ের প্রথম বিশ্বকাপ গোল। আর সেই গোলই এনে দিল দেশের জন্য মূল্যবান তিন পয়েন্ট।

বর্তমানে তুরস্কের বেশিকতাশে খেলা ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার কোরিয়ান ফুটবলে পরিচিত তার বক্সের ভেতরের ক্ষিপ্রতা ও শারীরিক শক্তির জন্য। ২০২৩ সালে স্কটল্যান্ডের সেল্টিকে যোগ দিয়ে প্রথম মৌসুমেই জয় করেন স্কটিশ প্রিমিয়ারশিপ, স্কটিশ কাপ ও লিগ কাপ। পরে বেলজিয়ামের জেংকে ৭৩ ম্যাচে ২২ গোল করার পর ২০২৬ সালের শুরুতে যোগ দেন বেশিকতাশে।

কাতারে যার স্বপ্ন অধরা ছিল, আজ গোয়াদালাহারায় সেই স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নিল। সুপার সাব হিসেবে নেমে, টানটান লড়াইয়ের ম্যাচে জয়সূচক গোল করে দলকে তিন পয়েন্ট এনে দিলেন ওহ হিউন-গিউ। এই রাতটা যেন শুধুই তার।

 

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link