ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে এক অভূতপূর্ব ও অনাকাঙ্ক্ষিত ইতিহাসের জন্ম হলো। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। তবে আলমিরনের এই বিদায় কোনো মারাত্মক ফাউল বা শারীরিক আগ্রাসনের জন্য ছিল না। ফুটবলের একদম নতুন এক নিয়মের বেড়াজালে এই শাস্তি পেয়েছেন তিনি।
ম্যাচ চলাকালীন তুরস্কের ডিফেন্ডার মের্ট মুলডুরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কিছু একটা বলছিলেন আলমিরন। আর ঠিক তখনই হাত দিয়ে নিজের মুখটি ক্ষণিকের জন্য আড়াল করেন তিনি। নিয়মভঙ্গের এই অপরাধ তাৎক্ষণিকভাবে ধরে ফেলেন মুলডুর এবং আঙুল উঁচিয়ে রেফারিকে বিষয়টি জানান।
আধুনিক ফুটবলের তীক্ষ্ণ চোখ এড়ানোর কোনো সুযোগ ছিল না। রেফারি কালক্ষেপণ না করে মাঠের ধারের ভিএআর মনিটরের দ্বারস্থ হন। সংক্ষিপ্ত ভিডিও পর্যালোচনার পর যখন তিনি মাঠে ফিরে আসেন, তখন আলমিরনের দিকে উঁচিয়ে ধরেন সেই অনাকাঙ্ক্ষিত লাল কার্ড।

মাঠের ভেতর খেলোয়াড়দের গোপন গালিগালাজ ও অসদাচরণ রুখতেই ফিফা এই কড়া নিয়ম চালু করেছে, যার প্রথম শিকার হলেন আলমিরন। এই কঠোর বিধির পেছনে রয়েছে গত ফেব্রুয়ারির চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একটি বিতর্কিত ঘটনা।
সেবার বেনফিকার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রের দিকে আপত্তিকর মন্তব্য ছুঁড়ে দেওয়ার সময় জার্সি দিয়ে নিজের মুখ চেপে ধরেছিলেন। যার ফলে ম্যাচ অফিশিয়ালদের পক্ষে তার সেই কটু কথা প্রমাণ করা বা লিপ-রিড করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
সেই ঘটনার পরেই নড়েচড়ে বসে ফিফা। নিয়মের নতুন ধারায় যুক্ত হয় – মাঠে যেকোনো উত্তেজনা বা তর্কাতর্কির সময় যদি কোনো খেলোয়াড় নিজের মুখ ঢেকে রাখেন, তবে রেফারি তাকে সরাসরি মাঠ থেকে বের করে দেওয়ার পূর্ণ অধিকার পাবেন। সেই নিয়মেরই প্রথম বাস্তবায়ন ঘটলো এবার।












