চার জন মাস্টারমাইন্ড আর তাদের চার ভিন্ন ফুটবল দর্শন। কিন্তু শেষ হাসি হাসবেন কে? নির্ধারিত হবে সেমিফাইনালে, মাঠের লড়াইয়ের সাথে চলবে মগজের লড়াই।
প্রথমেই আসবেন টমাস টুখেল। ইংল্যান্ডকে তিনি গড়ে তুলেছেন এক শৃঙ্খলিত রণতরী হিসেবে। ইংল্যান্ড এখন আর কেবল তারকানির্ভর দল নয়, বরং টুখেলের পরিকল্পনায় চালিত এক নমনীয় ইউনিট। প্রতিপক্ষের শক্তি বুঝে তিনি মুহূর্তেই বদলে ফেলেন ফরমেশন। কখনো তিন ডিফেন্ডার, কখনো চার জনের ব্যাকলাইন। মাঝমাঠে প্রেসিং করে দ্রুত বল পুনরুদ্ধারই তার প্রধান অস্ত্র।
অন্যদিকে লুই দে লা ফুয়েন্তের স্পেন ফিরিয়েছে শিল্পের গতি। এটি আর সেই পুরোনো মন্থর টিকি-টাকা নয়। ফুয়েন্তের দর্শন অনেক বেশি গতিময়। উইংয়ের ব্যবহার আর ‘থার্ড ম্যান রান’ দিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাটল ধরাতে তিনি সিদ্ধহস্ত। সুযোগ মিললে স্প্যানিশরা এখন বিদ্যুতের মতো আঘাত করতে জানে।

দিদিয়ের দেশম মানেই চরম বাস্তববাদের অনুসারী। ফ্রান্সের এই কোচ অযথা ঝুঁকি নেওয়া এড়িয়ে চলেন। তার মূল শক্তি জমাট রক্ষণ এবং বিধ্বংসী পাল্টা আক্রমণের পসরা। ম্যাচের গতি কখন নিয়ন্ত্রণে নিতে হয়, সেই জাদুমন্ত্র দেশমের জানা। নকআউট ফুটবলে অভিজ্ঞতার এই মূল্য অনেক বড়।
সবশেষে আসবেন লিওনেল স্কালোনি ও তাঁর দল আর্জেন্টিনা। তার সবচেয়ে বড় গুণ অভিযোজন ক্ষমতা। প্রতিপক্ষ অনুযায়ী তিনি বদলে ফেলেন নিজের রণকৌশল। মাঝমাঠে ভারসাম্য বজায় রাখা আর আক্রমণে পজিশনের রদবদল স্কালোনির বিশেষত্ব। প্রয়োজনে রক্ষণাত্মক ধৈর্য দেখালেও সুযোগ পেলে তিনি দেখান নির্দয় আক্রমণের ট্যাকটিক্স।
সেমিফাইনাল মানেই চার দলের প্রতিযোগিতা। চার মস্তিষ্কের বাজিমাতের লড়াই। তবু যে কোচ সবচেয়ে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেবেন, বিশ্বকাপ ট্রফিটা তার দিকেই পা বাড়াবে।











