আজ আর কোনো রূপকথা নয়, বিধাতার কলম লেখেনি আর কোনো বিস্ময়। লিওনেল মেসি নামক জাদুকর আর কোনো জাদু বের করেননি নিজের ঝুলি থেকে। শান্ত, শীতল এক প্রত্যাশিত পরাজয় বরণ করল আর্জেন্টিনা, টানা দ্বিতীয়বার হলো না, হলো চতুর্থবারের মতো বিশ্বসেরা আসনে আসীন হওয়া। বিশ্বকাপ জিততে আসা স্পেন অবশেষে শিকার করল সোনার হরিণ।
এদিন শুরু থেকেই ম্যাচের লাগাম টেনে ধরে স্পেন। একের পর এক আক্রমণ, একের পর এক গোলমুখী শট। আর্জেন্টিনাকে দিশেহারা করে ছেড়েছে স্পেন। প্রথমার্ধ পর্যন্ত এভাবেই চলেছে দুই দলের একপেশে লড়াই। প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ বল নিজেদের কাছে রেখেছে স্পেন, গোললক্ষ্যে শট নিয়েছে তিনটি, অন টার্গেট দুটোতেই। বিপরীতে ৩৫ শতাংশ বলের দখল নেওয়া আর্জেন্টিনা একটা শটও নেয়নি স্পেনের জাল লক্ষ্য করে।

দ্বিতীয়ার্ধে গল্পটা অন্যরকম হবে এই স্বপ্নে বিভোর ছিল আর্জেন্টিনা, বিভোর ছিল গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ভক্তকূল। তবে সবদিন আর রূপকথা হয় না। নির্জীব গল্প নিয়েই ম্যাচের দ্বিতীয় অধ্যায়টাও শেষ হয়। উপরন্তু এঞ্জো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড নিয়ে মাঠ ছেড়ে গেলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
অতিরিক্ত সময়ে ভাগ্য নির্ধারণ হবে। তবুও তো আশা ছিল, স্বপ্নরা মরে যায়নি তখনও। ৩০ মিনিট আর্জেন্টিনা পারবে, আরও একবার মেসি দেখাবে ম্যাজিক। সেটা হয়নি, হতে দেননি ফেরান তোরেস। ১০৬ মিনিটের মাথায় জয়সূচক গোলটা করেন তিনি। ওটাই স্পেনকে বসিয়ে দেয় সেরা সিংহাসনে। আর বাকিটা সময়ের অপেক্ষা। দুই-একটা খাপছাড়া সুযোগ আসে বটে, তবে সেটাকে কাজে লাগানোর অবস্থায় আর ছিল না ২০২২-এর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।

ফলাফল, দ্বিতীয়বারের মতো শ্রেষ্ঠত্ব পেল স্পেন। ঘাসের ওপর পড়ে রইল মেসির শেষ পদচিহ্ন। এ তল্লাটে হয়তো এই শেষ আসা, বিশ্বকাপের সুবাসিত ফুল আর ছেঁড়া হবে না মেসির। আর হবে না, কোনো বিস্ময়কর গল্পের জন্ম। প্রাপ্তি আছে, আক্ষেপও আছে, তবে শেষটা কেবল রঙিন নয়। তবুও তো অমরত্ব পেয়েছিলেন মেসি, ওটাই শেষ সম্বল করে বললেন, হে বন্ধু বিদায়, হে বন্ধু বিদায়।










