মাঠের সবুজ ঘাস যেন তাদের ক্যানভাস, আর ফুটবল এক অনন্য তুলি। লা রোজারা ১৬ বছর পর আবার আঁকল তাদের বহুলাকাঙ্ক্ষিত সেই ছবি। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে আবারও বিশ্বজয় করল স্পেন। ২০২৪-এ বার্লিনে ইউরো জয়ের পর নিউ জার্সিতে সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরা যেন মনে করিয়ে দিল ফুটবলে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের রূপকথার পুনর্জাগরণকে।
তবে এই জয় কেবল একটি ফাইনালের গল্প নয়। এটি এক অবিশ্বাস্য আধিপত্যের দলিলও। গত পাঁচ বছরে সব পর্যায় মিলিয়ে স্পেন জিতেছে মোট ১৬টি আন্তর্জাতিক শিরোপা। অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে জাতীয় দল, সবখানেই স্পেনের জয়ের মিছিল এখন অপ্রতিরোধ্য।
২০২৩ সালের উয়েফা নেশন্স লিগ আর ২০২৪ সালে অলিম্পিকের সোনা জেতে স্পেনের ছেলেরা। একই বছর ইউরো কাপও নিজেদের ঘরে তোলে লা রোজারা। ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ এর ইউরোপ সেরাও স্পেন।

স্প্যানিশ মেয়েরাও টানা দুবার উয়েফা নেশন্স লিগে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দলও গত পাঁচ বছরের ইউরোপ সেরার মুকুট নিজেদের দখলে রেখেছে, অনূর্ধ্ব-২০ আর ১৭ দল বিশ্বজয় করেছে। শুধু তাই নয়, ফুটবল ইতিহাসে স্পেনই প্রথম দেশ, যারা একইসাথে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।
এই সাফল্যের নেপথ্যের অন্যতম কারিগর জাতীয় দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তাকে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে এক সময় ছিল হাজারো প্রশ্ন। কিন্তু তিনি উপহার দিলেন এক সুশৃঙ্খল দল, যারা টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থেকে জিতল বিশ্বকাপ।
ভবিষ্যতও এখন হাতের মুঠোয় লা রোজাদের। ১৯ বছরের লামিন ইয়ামাল আর পাউ কুবারসি যখন মাঠে নামেন, তখন মনে হয় ফুটবল একটি সহজাত শিল্প হয়ে ওঠে। আর তাই স্পেন এখন সব স্তরেই জিততে জানে। যেন ফুটবল তার চিরচেনা নান্দনিকতা ফিরে পেয়েছে এক রক্তিম স্প্যানিশ সাম্রাজ্যে।











