একই রাতের ক্যানভাসে স্বপ্নভঙ্গের উগ্রতা আর পরম শ্রদ্ধা

একদিকে গলা চেপে ধরা, ধাক্কাধাক্কি, প্রায় হাতাহাতি—অন্যদিকে বুকে বুক মিলিয়ে সান্ত্বনা, ফাইনালের পরের রাতে একই মাঠে দেখা গেল ফুটবলের দুই বিপরীত মুখ

একদিকে গলা চেপে ধরা, ধাক্কাধাক্কি, প্রায় হাতাহাতি—অন্যদিকে বুকে বুক মিলিয়ে সান্ত্বনা, ফাইনালের পরের রাতে একই মাঠে দেখা গেল ফুটবলের দুই বিপরীত মুখ

ম্যাচ তখন শেষ। ঘড়ির কাঁটা বলছে হার মেনে নিয়েছে আর্জেন্টিনা, স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা তখনও তরতাজা। ঠিক এমন এক মুহূর্তেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের একপাশে ফেটে পড়ে ক্ষোভ। স্পেনের এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস, তারপর ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন গাভিকে, মারতেও উদ্যত হন তাকে। অবশ্য এর আগে গাভিও নাকি কিছু একটা বলে হালকা ধাক্কা দিয়েছিলেন পারেদেসকে, যদিও ঠিক কী বলেছিলেন তা এখনো অজানা। শেষ পর্যন্ত কোচ ও সতীর্থরা ছুটে এসে থামান দুজনকে, তবে এই কাণ্ডের জন্য লাল কার্ড এড়াতে পারেননি পারেদেস।

অথচ একই মাঠের আরেক কোণে, একই সময়ে, ফুটবল দেখাল তার অন্য এক রূপ। হারের কষ্টে মাঠের এক জায়গায় চুপচাপ একা বসেছিলেন লিওনেল মেসি। চ্যাম্পিয়ন স্পেনের গোটা দল তখন উদযাপনে মত্ত, ঠিক সেই ভিড় থেকেই দৌড়ে বেরিয়ে আসেন লামিন ইয়ামাল। ছুটে গিয়ে বুক মেলান আর্জেন্টিনার অধিনায়কের সঙ্গে, জড়িয়ে ধরেন তাকে। কয়েকটা কথাও হয় দুজনের মধ্যে। পরে সেই আলিঙ্গনের কথা বলতে গিয়ে মেসি নিজেই জানান, ইয়ামাল তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন, বারবার বলছিলেন যেন কাঁদতে না হয়। মেসির ভাষায়, ছেলেটা সত্যিই অনেক দয়ালু আর নরম মনের।

অথচ এই দুজনের সম্পর্কের শুরুটা মাঠের বাইরে, প্রায় দুই দশক আগে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে, বার্সেলোনার এক দাতব্য অনুষ্ঠানে, তখনকার ২০ বছর বয়সী তরুণ মেসি গোসল করিয়ে দিয়েছিলেন মাত্র পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুকে। সেই শিশুটাই আজকের লামিন ইয়ামাল, বিশ্বকাপজয়ী তারকা। সেদিনের সেই ছোট্ট শিশু যে কখনো নিজের চোখে দেখেননি সেই মুহূর্ত, আজ প্রায় উনিশ বছর পর সেই মেসিকেই সান্ত্বনা দিলেন নিজে হাতে।

একই মাঠ, একই রাত—একদিকে ক্ষোভ ছিটকে পড়ল হাতাহাতিতে, অন্যদিকে শ্রদ্ধা গলে পড়ল একটা আলিঙ্গনে। জয়-পরাজয়ের হিসেব তো ফুটবল মিটিয়েই দেয়, কিন্তু মানুষ চেনার হিসেবটা মেলায় বোধহয় এমন কিছু মুহূর্তই।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link