চিকিৎসা বিভাগ নিয়ে অসন্তুষ্ট বিসিবি!

প্রথম সারির এই পাঁচ ক্রিকেটারকেই লড়াই করতে হচ্ছে ইনজুরির সঙ্গে। এই ধারাবাহিক ইনজুরি শুধু দলকেই দুর্বল করছে না, বরং বিসিবির চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের চোট যেন আর থামছেই না। এক সিরিজ শেষ না হতেই একেকজন পড়ছেন চোটের কবলে। একের পর এক ইনজুরিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে গোটা দল। তানজিম হাসান সাকিব, মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, শরিফুল ইসলাম এবং লিটন দাস। প্রথম সারির এই পাঁচ ক্রিকেটারকেই লড়াই করতে হচ্ছে ইনজুরির সঙ্গে। এই ধারাবাহিক ইনজুরি শুধু দলকেই দুর্বল করছে না, বরং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চিকিৎসা ব্যবস্থাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

এবার সেই প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিজেই। বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন মেডিকেল বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে বোর্ড। বিশেষ করে লিটন দাসের চোট শনাক্তকরণ, চিকিৎসাপ্রক্রিয়া এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার শুরু অস্ট্রেলিয়া সিরিজ থেকে। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় চোট পান লিটন দাস। ব্যথা অনুভব করে মাঠ ছাড়লেও পুনরায় ফিরে আসেন, ৫৮ রানের ইনিংস খেলে থাকেন অপরাজিত। পরে স্ক্যান করানো হলেও অভিযোগ ওঠে, সেই রিপোর্টে চোটের মাত্রা সঠিকভাবে ধরা পড়েনি। ফলে চোট নিয়েই তাঁকে পরবর্তীতে স্কোয়াডে রাখা হয়। এমনকি পাঠানো হয় জিম্বাবুয়ে সফরে।

সেখানেও ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি লিটন। কাফ মাসলে ব্যথা অনুভব করলে কোনো ম্যাচ না খেলেই দেশে ফিরতে হয়। পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান লিটন। সেখানে নতুন স্ক্যানে ধরা পড়ে চোটের প্রকৃত অবস্থা। বর্তমানে তাঁকে দেওয়া হচ্ছে প্লেটলেট-রিচ প্লাজমা বা পিআরপি থেরাপি। অথচ এর আগে ফিজিওর দেওয়া প্রোটোকল মেনেই চিকিৎসা ও অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।

তবে বিসিবির এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, লিটনের ভুল চিকিৎসা হয়নি। স্ক্যান রিপোর্টের ভিত্তিতেই চিকিৎসা প্রোটোকল নির্ধারণ করা হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেননি। একই সঙ্গে তিনি জানান, পুনর্বাসনের সময় লিটনকে এমন কোনো অনুশীলন করানো হয়নি, যেটিকে ভুল বলা যায়।

শুধু লিটনই নন, একই সিরিজে তিন পেসারের চোটও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মুস্তাফিজুর রহমানের ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে গ্রেড-ওয়ান স্ট্রেইনের পাশাপাশি পুরোনো হাঁটুর ব্যথা ফিরে এসেছে। শরিফুল ইসলাম বাম পায়ের পেশিতে গ্রেড-ওয়ান স্ট্রেইনে আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর পুনর্বাসন প্রায় শেষের পথে। নাহিদ রানা তো ছিটকে গেছেন প্রায় চার থেকে আট সপ্তাহের জন্য।

একের পর এক ইনজুরি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের পর এখন বিসিবির নজর পুরো মেডিকেল বিভাগের ওপর। জবাবদিহিতা শেষে কী সিদ্ধান্ত আসে, চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন হয় কি না—সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link