লোয়ার অর্ডারে ক্রাইসিস ম্যানের খোঁজে আর কত পরীক্ষা?

অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ দেখলে একটা জিনিস চোখে পড়ে বারবার। টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও লজ্জাজনক কোনো সংগ্রহে গিয়ে থামে না তাদের ইনিংস। মিডল কিংবা লোয়ার মিডল অর্ডার থেকে ঠিক কেউ না কেউ হাল ধরে ফেলেন, দলকে টেনে তোলেন একটা সম্মানজনক অবস্থানে।

অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ দেখলে একটা জিনিস চোখে পড়ে বারবার। টপ অর্ডার ব্যর্থ হলেও লজ্জাজনক কোনো সংগ্রহে গিয়ে তাদের ইনিংস থামে না। মিডল কিংবা লোয়ার মিডল অর্ডার থেকে ঠিক কেউ না কেউ হাল ধরে ফেলেন, দলকে টেনে তোলেন একটা সম্মানজনক অবস্থানে।

বাংলাদেশ ঠিক এই জায়গাতেই হোঁচট খেয়েছে বারবার। ওপেনিংয়ের সমস্যা তো পুরোনো, তার ওপর টপ অর্ডার টিকে থাকতে ব্যর্থ হলে দায়িত্বটা গিয়ে পড়ে লোয়ার অর্ডারের কাঁধে। কিন্তু আসল সংকট সেখানেই, ভরসা করার মতো এমন কেউ নেই যিনি চাইলেই সাদা বলের ম্যাচের রংটা বদলে দিতে পারেন।

এই খোঁজ চলছে বহুদিন ধরে। নাসির  হোসেন থেকে সাব্বির রহমান, কখনও নুরুল হাসান সোহান, সবাইকে দিয়েই চেষ্টা করা হয়েছে । শুরুটা প্রতিবারই ছিল প্রতিশ্রুতিময়, কিন্তু শেষমেশ কেউই লম্বা সময় ধরে রাখতে পারেননি সেই ধারাবাহিকতা। ফলে প্রতিবারই পরীক্ষা শেষ হয়েছে একই জায়গায়, একটা নতুন নাম খুঁজে বের করার তাগিদে।

সেই তাগিদ থেকেই এবার বোর্ড ফিরে তাকিয়েছে হারিয়ে যাওয়া কিছু মুখের দিকে। জুনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে প্রায় চার বছর পর ফেরানো হয় মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে আর টি-টোয়েন্টিতে তিন বছর পর ডাক পান ইয়াসির আলী রাব্বি। দুজনেই ফিরে এসে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, মোসাদ্দেক অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসে, রাব্বি ৩৮ বলে ৫৪ রান করে।

প্রশ্নটা তাই এখন এসে যায়,  এই দুজনের মধ্যেই কি লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের সমাধান, নাকি এটাও আরেকটা পরীক্ষা মাত্র, যার শেষটাও একই রকম হারিয়ে যাওয়ায়?

বাস্তবতা হলো, দুজনেরই বয়স এখন তিরিশের কোঠায়। এই বয়সে বোর্ডের বিনিয়োগ সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হয় না, বরং তাৎক্ষণিক সংকট সামলানোর তাগিদেই এই ফেরানো। তার ওপর মিডল অর্ডারের যে জায়গাটায় দুজনেই খেলেন, সেখানে আগে থেকেই পাকাপোক্ত মেহেদী হাসান মিরাজ। ব্যাটে বলে দুই বিভাগেই তিনি দলের প্রায় অটোমেটিক চয়েস। ফলে রাব্বি আর মোসাদ্দেক দুজনকে একসঙ্গে একাদশে রাখাটাই কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।তবে একজন ওয়ানডে আরেকজন টি-টুয়েন্টি  তে একাদশে রাখা যেতেই পারে।

ঘরোয়া ক্রিকেটের রেকর্ড বলছে, প্রতিভার অভাব কখনও ছিল না কারও। রাব্বি ৮৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে করেছেন পাঁচ হাজারের বেশি রান, গড় চল্লিশের ওপরে। অন্যদিকে মোসাদ্দেক তো একসময় ছিলেন দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় তরুণদের একজন, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনটি ডাবল সেঞ্চুরির মালিক, বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। মাত্র দশ ইনিংসেই ছুঁয়েছিলেন হাজার রান। দুজনেরই কমতি ছিল শুধু আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকতার, চোট আর সুযোগের অভাব ভুগিয়েছে বারবার।

শেষ পর্যন্ত উত্তরটা মিলবে সময়ের সঙ্গেই। ইয়াসির আর মোসাদ্দেককে যদি টানা কিছু সুযোগ দেওয়া হয়, আর তারা যদি সেই সুযোগে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাতে পারেন, তাহলেই কেবল বলা যাবে বাংলাদেশ সত্যিই খুঁজে পেয়েছে তাদের লোয়ার অর্ডারের ভরসার নাম। অন্যথায় বোর্ড হয়ত আবারো খুঁজতে থাকবে নতুন কোন নাম নতুন কোন সম্ভাবনা!

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link