নারী এশিয়া কাপের ফ্লপ একাদশ!

নারী এশিয়া কাপে আলো কেড়েছেন অনেকেই। আবার মুদ্রার ওপিঠে ব্যর্থতার পাল্লাও কম ভারি নয়। প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারেননি অনেকেই, দলের বোঝা হয়েই শেষ করেছেন আসর। তাদের নিয়েই থাকছে এবার এশিয়া কাপের ফ্লপ একাদশ নির্বাচন।

নারী এশিয়া কাপে আলো কেড়েছেন অনেকেই। আবার মুদ্রার ওপিঠে ব্যর্থতার পাল্লাও কম ভারি নয়। প্রত্যাশার দাবি মেটাতে পারেননি অনেকেই, দলের বোঝা হয়েই শেষ করেছেন আসর। তাদের নিয়েই থাকছে এবার এশিয়া কাপের ফ্লপ একাদশ নির্বাচন।

  • মুনিবা আলী

পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ওপেনার মুনিবা আলীও ছিলেন প্রত্যাশার তালিকায়, তবে আসর শেষে ব্যর্থ হয়েই ফিরেছেন। টুর্নামেন্টে ৭৫ রান করেছেন চার ম্যাচে, গড় ১৮.৭৫ এবং স্ট্রাইক রেট ৯১-এর নিচে। হ্যাঁ, থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৫৪ রানের ইনিংস আছে তাঁর, কিন্তু বাকি ম্যাচগুলোতে সেই ধারাবাহিকতা কোথায়? পাকিস্তানের ইনিংসের শুরুতে গতি এনে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল তাঁর, অথচ পুরো আসরে সেই প্রভাব খুব কমই দেখা গেছে। তাই ফ্লপ একাদশের  ওপেনার মুনিবা।

 

  • জুয়াইরিয়া ফেরদৌস

বাংলাদেশের টপ অর্ডার পুরো আসরেই ভুগিয়েছে। এর পেছনে বড় কারণ জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। ওপেনিংয়ে নেমে বলার মতো কিছু তো করতেই পারেননি, বরং চাপ বাড়িয়েছেন বাকি সময়। চার ম্যাচে নামের পাশে মাত্র ৫২ রান। স্ট্রাইক রেট ৯৪। একজন ওপেনারের এমন ফর্ম তাঁকে ফ্লপ একাদশে রাখতে বাধ্য।

  • প্রতিকা রাওয়াল

ভারতের টপ অর্ডারে তিন নম্বর জায়গাটা এমনিতেই গুরুত্বপূর্ণ। তার ওপর জেমিমাহ রদ্রিগেজের চোটে হঠাৎ করেই বড় দায়িত্ব এসে পড়ে প্রতিকা রাওয়ালের কাঁধে। কিন্তু চার ম্যাচে ৫৬ রান, গড় মাত্র ১৪ এবং সর্বোচ্চ ২২, এই সংখ্যাগুলো বলছে, সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। স্ট্রাইক রেট ৯৮-এর ওপরে হলেও ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপে প্রতিকার কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল।

  • হারমানপ্রিত কৌর

ভারতের অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌরের ক্ষেত্রে প্রত্যাশার মাত্রাটা আরও বেশি। দল এশিয়া কাপ জিতেছে, কিন্তু ব্যাট হাতে অধিনায়কের পারফরম্যান্স ছিল সেই সাফল্যের সঙ্গে বেমানান। পাঁচ ম্যাচে ৭১ রান, গড় ২৩.৬৭ এবং সর্বোচ্চ মাত্র ২৪। পুরো টুর্নামেন্টে একবারও পঞ্চাশের দেখা পাননি। ফাইনালেও ৫ বলে ১২ রানে অপরাজিত ছিলেন। ভারতের অন্য ব্যাটাররা যখন একের পর এক ম্যাচে দাপট দেখিয়েছেন, তখন হারমানপ্রিত ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ।

  • নিগার সুলতানা জ্যোতি

বাংলাদেশের অধিনায়ক নিগার সুলতানার কাছেও দাবিটা ছিল বেশ প্রবল। কিন্তু চার ম্যাচে ১৪ গড়ে ৫৬ রান, একেবারেই অধিনায়কের মানের নয়। তার ওপর দলের সেরা ব্যাটার তিনি। ব্যাটিং অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থেকেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। বাংলাদেশ সেমিফাইনালে উঠলেও ব্যাট হাতে নিগারের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল হতাশার।

 

  • ইমেশা দুলানি

শ্রীলঙ্কা চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, কিন্তু ফাইনাল পর্যন্ত তাদের যাত্রাটা ছিল দারুণ। সেই দলেরই ব্যাটার ইমেশা দুলানি অবশ্য পুরো টুর্নামেন্টে সেভাবে প্রভাব রাখতে পারেননি। পাঁচ ম্যাচে ৬৮ রান, গড় মাত্র ১৩.৬০। নিয়মিত একাদশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি।

  • স্বর্না আক্তার

ব্যাট হাতে বড় শট খেলার ক্ষমতা আছে স্বর্না আক্তারের। ইমপ্যাক্টফুল ইনিংস তাই তাঁর কাছ থেকে আশা করেছিল দল। তবে এই পরীক্ষায় ডাহা ফেল করেছেন তিনি। চার ম্যাচে মাত্র ৬২ রান এসেছে ব্যাট থেকে। একটিতেই অবশ্য ৩১। বাদবাকি সব ম্যাচে আশানুরূপ কিছুই করতে পারেননি।

  • সুগান্দিকা কুমারি

সুগান্দিকা কুমারিও শ্রীলঙ্কার জন্য বিশেষ কিছু করতে পারেননি। পাঁচ ম্যাচে ছয় উইকেট, গড় ১৫.৬৭ এবং ইকোনমি ৪.৯৫। শ্রীলঙ্কার প্রধান স্পিন অস্ত্র হিসেবে তাঁর ওপর প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি। বিশেষ করে ফাইনালে চার ওভারে ৩১ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। ভারতের ব্যাটারদের সামনে তাঁর বোলিং খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।

  • সাদিয়া ইকবাল

পাকিস্তানের বাঁহাতি স্পিনার সাদিয়া ইকবালের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ উইকেট নিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। কিন্তু এরপর সেই ধারটা আর ধরে রাখতে পারেননি। ভারতের বিপক্ষে ৩ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য, হংকংয়ের বিপক্ষে ২ ওভারে ৮ রান দিয়ে একটি উইকেট এবং সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে একটি উইকেট। অর্থাৎ শেষ তিন ম্যাচে মোট দুই উইকেট। দলের অন্যতম প্রধান বোলার হিসেবে তাঁর কাছ থেকে আরও বড় প্রভাব প্রত্যাশিত ছিল।

  • ফাহিমা খাতুন

বাংলাদেশের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ফাহিমা খাতুনও এই একাদশে জায়গা পাচ্ছেন। ব্যাট-বল দুই বিভাগেই অবদান রাখার কথা থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টে বড় কোনো পারফরম্যান্স দিয়ে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে পারেননি। চার ম্যাচে বল হাতে মাত্র দুই উইকেট, ব্যাটে মাত্র ৩৩ রান। ফ্লপ একাদশে নিজের জায়গাটা পাকা করেছেন।

  • নাহিদা আক্তার

শেষ জায়গাটা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হতে পারে। কারণ নাহিদা আক্তার পুরোপুরি ফ্লপ ছিলেন না, ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ১৫ রান দিয়ে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরাও হয়েছিলেন। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টের বিচারে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল ওঠানামায় ভরা। বাকি তিন ম্যাচে নিয়েছেন মাত্র তিন উইকেট। অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার তুলনায় তাই নাহিদাকে শেষ সদস্য হিসেবে রাখা হচ্ছে ফ্লপ একাদশে।

সব মিলিয়ে এশিয়া কাপের ফ্লপ একাদশ দাঁড়াচ্ছে: মুনিবা আলী, জুয়াইরিয়া ফেরদৌস, প্রতিকা রাওয়াল, হারমানপ্রিত কৌর, নিগার সুলতানা জ্যোতি, ইমেশা দুলানি, স্বর্না আক্তার, ফাহিমা খাতুন, সুগান্দিকা কুমারি, সাদিয়া ইকবাল ও নাহিদা আক্তার।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link