এখনও সুযোগের অপেক্ষায় যশস্বী জয়সওয়াল!

রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে নিয়মিত দ্যুতি ছড়ালেও ভারতের জার্সিতে সাদা বলে অভিজ্ঞদের ভিড়ে থিতু হতে পারছেন না যশস্বী জয়সওয়াল।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে নিয়মিত দ্যুতি ছড়ালেও ভারতের জার্সিতে সাদা বলে অভিজ্ঞদের ভিড়ে থিতু হতে পারছেন না যশস্বী জয়সওয়াল। সম্প্রতি ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের স্কোয়াডে ঠাঁই পেলেও শুরুর একাদশে তিনি খেলেননি।

এ নিয়ে সমালোচনা হলেও ভারতের ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাকের ভাষ্য, জয়সওয়ালের সঙ্গে টিম অবিচার করছে না। তাঁকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে হবে। কোটাক বলেন, ‘এখানে অনেক প্রতিযোগিতা আছে এবং অনেক খেলোয়াড়ই ভালো পারফরম্যান্স করছে। জয়সওয়ালও তাঁদের মধ্যকার সেরাদের একজন। তাই সে দলেরই অংশ।’

এরপরও তাঁর মতো অসাধারণ প্রতিভাবান ওপেনারের রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকাটা দৃষ্টিকটুই ঠেকে। তবে এটিকে কোনো অন্যায্য বিচার হিসেবে দেখতে চান না কোটাক। বরং, তাঁর মতে, দলের ভেতরের সুস্থ ও কঠিন প্রতিযোগিতার এক বাস্তব প্রতিফলন বলা চলে এটিকে।

কোটাক খোলাখুলি জানিয়ে দিয়েছেন, ‘জয়সওয়ালকে নিজের সুযোগের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমান দলে প্রতিটি পজিশনের জন্য তুমুল লড়াই চলছে এবং প্রায় প্রত্যেক খেলোয়াড়ই পারফর্ম করছেন।’

টিম ম্যানেজমেন্ট সর্বদা জয়সওয়ালের ওপর নজর রাখছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দলের প্রয়োজন যখনই পড়েছে, তখনই সে পারফর্ম করেছে। কিন্তু, আমরা তাঁর দক্ষতা আর প্র্যাকটিস সেশনগুলো আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সে কোন পর্যায়ে আছে, কীভাবে সবকিছু করছে আমরা তা দেখছি। আমাদের জায়গা থেকে এতটুকুই করার আছে, এবং আমরা সেটাই করছি।’

২০২৩ সালের জুলাইয়ে ভারতের সাদা পোশাকে অভিষেক হয় জয়সওয়ালের। তবে, ওয়ানডে দলে ডাক পেতে আরও দুই বছর সময় লেগে যায় তাঁর। এরপরও, গত এক বছরে মোটে ছয়টি ওয়ানডে খেলেই দুটি সেঞ্চুরিসহ ৭১.২৫ গড়ে ২৮৫ রান করেছেন তিনি। সবশেষ আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোম সিরিজে অপরাজিত ১১০ রানের এক নান্দনিক ইনিংস খেলেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। কিন্তু, তারপরও ইংল্যান্ড সিরিজে বাদ পড়েন তিনি।

মূলত, খেলায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল বের করে আনার জন্যই জয়সওয়ালকে কম সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন ভারতের ব্যাটিং কোচ। দলে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি ও শুভমান গিলের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা থাকায় এটি ঘটছে।

কোটাক বলেন, ‘নতুন খেলোয়াড়দের খেলোনার প্রচেষ্টা এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের মাঝখানে একটি সূক্ষ্ম বিভেদরেখা রয়েছে। দলে কে জায়গা পাবে সেটি দেখা কোচ ও অধিনায়কের দায়িত্ব হলেও, আমরা সবসময়ই মাঠে আমাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল দেখতে চাই।’

জয়সওয়ালের জন্য একাদশের দরজা খোলার এই অপেক্ষা হয়তো আরও দীর্ঘ হবে। তবে সুযোগ এলে তিনি যে বড় কিছু করবেন, তা নিশ্চিত। এখন দেখার পালা, কবে আসে তাঁর সেই সুযোগ।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link